বসুন্ধরা কিংস ও শেখ রাসেল। ৪টা ৩০, সরাসরি বিটিভি
সোহেল সারোয়ার চঞ্চল
বসুন্ধরা কিংসের স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজেন তার কোচিং ক্যারিয়ারে আজকের স্বাধীনতা কাপসহ নিয়ে ছয়টি ফাইনালে দলের দায়িত্বে। আগেরগুলোর মধ্যে দুটি করে আছে মালদ্বীপ ও ভারতে এবং অপরটি ঢাকায় অনুষ্ঠিত ফেডারেশন কাপ ফাইনাল। মালদ্বীপে দুটিতেই এবং ভারতের একটিতে ট্রফি পেয়েছেন। ঢাকার ফেডারেশন কাপে ট্রফি পাননি।
শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের কোচ সাইফুল বারী টিটুর ক্যারিয়ারেও আছে পাচটি ফাইনাল। টিটু বলছিলেন, প্রায় বেশির ভাগ ফাইনালে ট্রফি পাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল। এ প্রেক্ষাপটেই ফুটবলামোদীদের কৌতুহল- আজ কার হাতে উঠবে ট্রফি। টিটু প্রস্তুত ট্রফি তুলবেন। প্রস্তুত অস্কার ব্রুজেনও।
বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বিকাল সাড়ে ৪টায় স্বাধীনতা কাপ ফুটবলের ফাইনালে মুখোমুখি হবে বসুন্ধরা কিং এবং শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র।
একই পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের দল বসুন্ধরা কিংস এবং শেখ রাসেল। তাদের অবস্থানও একই স্থানে। বসুন্ধরার আবাসিক এলাকায় খেলোয়াড়দের ক্যাম্প অনুশীলন সবই। কাছাকাছি অবস্থান হলেও ফাইনালের আগে দুই দলের মধ্যে মনোভাব যুদ্ধংদেহী। ট্রফি জয়ের জন্য মরিয়া অস্কার ব্রুজেন এবং টিটু ছক কষছেন কিভাবে সোনালি ট্রফি জয় করা যায়।
মৌসুমের সবচেয়ে বড় বাজেটের দল বসুন্ধরা কিংস। রাশিয়ায় খেলে আসা বিশ্বকাপের ফুটবলার কোস্টারিকার ড্যানিয়েল কলিন্দ্রেস রয়েছেন এই দলে। আছেন আরো একাধিক ফুটবলার যারা গুণে-মানে বিপক্ষের চাইতে অনেক এগিয়ে। কাগজে কলমে শেখ রাসেলের চেয়ে বসুন্ধরার শক্তি বেশি। তারপরও এই টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল এবং সেমিফাইনালে টাইব্রেকারে জিততে হয়েছিল তাদের। শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির মোকাবেলা যেন আর করতে না হয় তা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন কোচ অস্কার ব্রুজেন। তার দলের দুশ্চিন্তা রয়েছে কলিন্দ্রেসের হালকা ইনজুরি নিয়ে। তবুও তিনি খেলবেন। ব্রাজিলিয়ান মারকোসেরও একটু চোট রয়েছে। তিনিও খেলবেন। দলের অন্যতম প্লেমেকার কিরগিজ ফুটবলার বখতিয়ার কাতার গিয়েছেন জাতীয় দলের খেলা খেলতে। বখতিয়ার যদি আজ দুপুরের আগে ঢাকায় পৌঁছে যান তাহলে তাকে নামানো হতে পারে। তা না হলে কলিন্দ্রেস এবং মারকোসকে নিয়ে মাঠে নামবেন অস্কার ব্রুজেন। তার চোখে দলের সব খেলোয়াড়ই সমান। প্রশ্ন উঠল কলিন্দ্রেস বিশ্বকাপ খেলেছেন। বাংলাদেশের কোনো ফুটবলার বিশ্বকাপ খেলেননি। ব্রুজেনের জবাব, ‘কলিন্দ্রেস জাতীয় দলে খেলেছেন। আমার দলে যারা আছেন তারাও বাংলাদেশের জাতীয় দলে খেলেছেন। তবে হ্যাঁ কলিন্দ্রেস আমার দলে থাকায় বাড়তি শক্তি।’
বাড়তি শক্তির কথাটা শেখ রাসেল কোচ টিটুও জানেন। তাইতো কলিন্দ্রেসকে সমীহ করতে কার্পণ্য নেই টিটুর। বাস্তবতা মেনে নিয়েই তিনি শেখ রাসেলকে ট্রফি এনে দেয়ার পরিকল্পনা করেছেন। কলিন্দ্রেসকে কিভাবে অকার্যকর করা যায়, তার সেই মন্ত্র জানা আছে। এখন মাঠে কাজে লাগাতে চান তিনি।
স্বাধীনতা কাপ ফুটবলে শেখ রাসেল প্রথম ম্যাচ খেলেছিল এই বসুন্ধরা কিংস এবং শেখ জামালের বিপক্ষে। দুই ম্যাচই গোলশূন্য ড্র হয়েছিল। কোচ সাইফুল বারী টিটু বলছিলেন, ‘ওই শুরুটা আমাদের জন্য কঠিন ছিল। আমরা কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিলাম, সেটার সব কৃতিত্ব খেলোয়াড়দের।’ ফাইনাল নিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘কোচ অস্কার ব্রুজেনকে আমি জানি। তাকে মালদ্বীপে দেখেছি। তিনি কি করতে পারেন জানি। শুধু কলিন্দ্রেস নয়, প্রতিপক্ষের সব খেলোয়াড়ের উপরই আমাদের নজর থাকবে।’
বসুন্ধরার গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকো শেষ দুটি ম্যাচ টাইব্রেকারে জিতিয়ে ফাইনালের মঞ্চে তুলেছেন দলকে। এ প্রসঙ্গে টিটুর মত, ‘আমাদেরও আছে জাতীয় দলের এক নম্বর গোলকিপার আশরাফুল ইসলাম রানা।’ রাসেলের অধিনায়ক রানা সংবাদ সম্মেলনে বলছিলেন, ‘আজকের ফাইনালে যারা প্রথম গোল করবেন তারা এগিয়ে যাবেন।’ কোচ টিটুও প্রথম গোলের উপর জোর দিয়ে বললেন, ‘প্রথম গোলটা একটা ফ্যাক্টর।’
অধিনায়ক কলিন্দ্রেসের অনুপস্থিতিতে কাল বসুন্ধরার সংবাদ সম্মেলনে আসেন ইমন বাবু। ফাইনাল নিয়ে তিনি বলেন, ‘শেখ রাসেলের বিপক্ষে তিন-চারটা ম্যাচ খেলেছি। বুঝাপড়া ভালো। আশা করি, আমরা টাইটেল জিতব।’