স্পোর্টস ডেস্ক
প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর পর নিজ মাঠে ক্লাসিকো জিতল রিয়াল মাদ্রিদ।
নিজেদের মাঠে শেষ পাঁচ বছরে এল ক্লাসিকোয় জয় ছিল না রিয়াল মাদ্রিদের, জিততে পারেনি বার্সেলোনার বিপক্ষে শেষ সাত লিগ-দ্বৈরথেও। এমনকি শেষ তিন ম্যাচে সেল্টা ভিগো, লেভান্তে ও ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধেও জয়বঞ্চিত ছিল জিনেদিন জিদানের শিষ্যরা। অবশেষে জয় খরা কাটাতে বেছে নিল তারা মৌসুমের শেষ এল ক্লাসিকোকেই। বার্সাকে হারাল ২-০ গোলে, উঠে এলো লা লিগারও শীর্ষে।
দিন চারেক আগেই রিয়াল নিজেদেরই মাঠে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে হেরেছিল। এল ক্লাসিকোর আগে বার্সেলোনা কোচ কিকে সেতিয়েন সিটির মন্ত্রেই রিয়ালকে হারাতে চাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। তবে গত রবিবারের ম্যাচে দেখা গেল পুরোপুরি উলটো ঘটনাই।
রিয়াল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলয় সিটির বিরুদ্ধে শুরুতে দাপট দেখালেও শেষদিকে তা হারিয়েছিল। এদিন রিয়ালের জায়গায় দলটা ছিল বার্সেলোনা। প্রথমার্ধে মাঝমাঠের দখলকে গোলে রূপ দিতে পারেনি ফরোয়ার্ডদের ভুলে। আন্তনিও গ্রিজমানের শট বেরিয়ে গেছে গোলের বাইরে দিয়ে, মেসির দুটো শট রুখে দিয়েছিলেন রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। তিনটি পরিষ্কার সুযোগ হারানোর খেসারতই দিতে হয়েছে দলটিকে।
বিরতির পর থেকেই রিয়ালের ‘হাইপ্রেস’ কৌশলের কাছে নিয়মিত বল হারানো কাতালানরা একপর্যায়ে মনোযোগও হারায়। তারই সুযোগ নেয় মাদ্রিদ। ৭০ মিনিটে টনি ক্রুস বল বাড়ান বাঁ প্রান্তে ফাঁকায় থাকা ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে। বক্সে ঢুকে সামনে থাকা জেরার্ড পিকের স্লাইডিং ট্যাকলকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রিয়ালকে এগিয়ে দেন ১৯ বছর বয়সি এই ব্রাজিলিয়ান। লিওনেল মেসিকে হটিয়ে বনে যান ক্লাসিকোর সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতাও।
এরপর রক্ষণকাজটা সামনে বার্সেলোনাকে বারবার প্রতি-আক্রমণে ভুগিয়েছে রিয়াল। ফলটা মিলেছে একদম শেষে। ম্যাচের শেষ প্রতি-আক্রমণে গোল করে সব অনিশ্চয়তা মুছে দেন মৌসুমে প্রথমবারের মতো মাঠে নামা ব্রাহিম দিয়াজ।
এ জয়ের ফলে বার্সাকে অনেক জায়গাতেই টপকে গেছেন সার্জিও রামোসরা। পয়েন্ট তালিকার ব্যাপারটাই সবচেয়ে বেশি তৃপ্তি দেবে জিদানের শিষ্যদের। ২৬ ম্যাচে ৫৬ পয়েন্ট নিয়ে তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে রিয়াল। দল হিসেবে লা লিগায় সর্বোচ্চ ৬ হাজার ১৫২ গোল এখন রিয়াল মাদ্রিদের। আগের ম্যাচে এইবার এর বিপক্ষে ৫-০ ব্যবধানের জয়ে রিয়ালকে টপকে গিয়েছিল বার্সা। তবে লা লিগায় মোট এল ক্লাসিকো জয়ে এখন সমতায় রিয়াল-বার্সা। দুই দলই জিতেছে ৯৬টি করে ম্যাচ।
টানা তিন ম্যাচ জয়হীন থাকায় রিয়ালের ওপর চলে এসেছিল পাহাড় সমান চাপ। এল ক্লাসিকো জয়ে কিছুটা হলেও সেটা সামলাতে পেরেছে রিয়াল। জিদান সন্তুষ্ট তাতেই, ‘রক্ষণ ও আক্রমণে আমরা যা করেছি তাতে আমরা যোগ্য দল হিসেবেই জিতেছি। সপ্তাহটা জটিল ছিল। আমাদের সামনে পরিস্থিতি বদলের সুযোগ ছিল এবং আমরা সেটা করতে পেরেছি।’
লিগের শীর্ষে উঠে এলেও আরো অনেক দূরের পথ বাকি, দলকে জিদানের সতর্কবার্তা। রিয়াল কোচের ভাষ্য, ‘কিন্তু এ জয়টা কিছুই পরিবর্তন করে দেবে না। আমাদের আরো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট পেয়েছি আমরা কিন্তু আমাদের আরো কিছু কঠিন ম্যাচ আছে যেখানে হারলে সমালোচিত হওয়ারও আশঙ্কা আছে।’ এদিকে বার্সাকে পোড়াচ্ছে শুরুর দাপটটা ধরে রাখতে না পারার হতাশা। কোচ সেতিয়েনের ভাষ্য, ‘দ্বিতীয়ার্ধে আমি জানি না কেন আমরা এত সহজে বল হারাচ্ছিলাম। সেটাই রিয়ালকে ম্যাচে ফিরতে সহায়তা করেছিল। প্রথমার্ধের ছন্দটাকে দ্বিতীয়ার্ধে আনতে পারিনি আমরা, এটা লজ্জার।’