ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র করপোরেশনের কাউন্সিলরদের নিয়া বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়া মশক নিধনের কার্যক্রম মনিটর করিতেছেন। ইহার পাশাপাশি প্রতিটি এলাকার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও মনিটর করা হইতেছে। এমন উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। উন্নত দেশে বাড়িঘর ও আশপাশ এলাকা নোংরা থাকিলেই জরিমানার ব্যবস্থা রহিয়াছে। সেই অনুযায়ী গত বত্সর ডেঙ্গুর মৌসুমে বাংলাদেশেও ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমাইয়া রাখা বাড়িতে জরিমানা করা হইয়াছিল। এইবারও সেই নীতি অনুসরণ করা হইতেছে বলিয়া জানা যায়। মোটকথা, মশক নিধনকে এবারও বড়ো চ্যালেঞ্জ হিসাবে গ্রহণ করিয়াছে রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন; কিন্তু প্রশ্ন হইল, মশা কি কেবল রাজধানী ঢাকাতেই জন্মায়? ফসলের জন্য ক্ষতিকারক ইঁদুর নিধনের ন্যায় সারাদেশে মশার বংশ নির্বংশ করিবার জন্য কোনো জাতীয় কর্মসূচি কি গ্রহণ করা যায় না? যেহেতু মশা ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ অনেক রোগের বাহক, তাই জাতীয় স্বাস্থ্য রক্ষায় এই ব্যাপারে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা একান্ত আবশ্যক।
সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার এক জরিপের ফলাফলে বলা হইয়াছে, ডিএনসিসির (ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন) ১২ ও ডিএসসিসির (ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন) ১০ শতাংশ এলাকায় এডিস লার্ভার ঝুঁকিপূর্ণ উপস্থিতি বিদ্যমান। ইহার পর দুই সিটি করপোরেশনের টনক নড়ে। তাহারা মশক নিধন কার্যক্রম গতিশীল করিবার উদ্যোগ নেন। বিভিন্ন এলাকার প্লাস্টিকের ড্রাম, পানি সংরক্ষণের জলাধার, প্লাস্টিকের বালতি, পরিত্যক্ত টায়ার, নির্মাণাধীন ভবন ও স্থাপনা, পরিত্যক্ত সিরামিকের পাত্র, মাটির পাত্র, ফুলের টব ইত্যাদিকে এডিসের প্রজননক্ষেত্র হিসাবে বিবেচনা করিয়া সেখানে মশার ঔষধ প্রয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। কেননা, এই ব্যাপারে আমাদের গত বত্সরের অভিজ্ঞতা খুবই করুণ। তবে সাধারণ কিউলেক্স মশাও কম আতঙ্কের কারণ নহে। এডিস মশার মতো কিউলেক্স মশাও নাগরিকদের বড়ো যন্ত্রণার কারণ হইয়া দাঁড়াইয়াছে। বিশেষজ্ঞরা বলিতেছেন, কিউলেক্স মশা হইতে ফাইলেরিয়াসিস (গোদরোগ) ও ওয়েস্ট নাইল (একধরনের জ্বর) ভাইরাসে আক্রান্ত হইবার ঝুঁকি থাকে। এই ভাইরাসের কারণে স্নায়ুতন্ত্রের রোগে মানুষের মৃত্যুও হইতে পারে। সুতরাং ইহাকেও অবহেলা করিবার অবকাশ নাই। আর এই ধরনের মশার উত্পাত যেহেতু কমবেশি সারাদেশেই রহিয়াছে, তাই সারাদেশেই মশক নিধনে কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ করা দরকার। মশক নিধনে বিভিন্ন পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদেরও আগাইয়া আসা উচিত।
ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১০টি অঞ্চল হইতে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করিতেছে। এই খাতে চলতি অর্থবত্সরে ডিএনসিসির বরাদ্দ ৪৯ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা এবং ডিএসসিসির বরাদ্দ ৪৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা। সারাদেশের মানুষকে মশার যন্ত্রণা হইতে রক্ষা করিতে হইলে স্থানীয় সরকারগুলির জন্য বরাদ্দও বাড়াইতে হইবে। মশক নিধনের জন্য সেইখানে সরবরাহ করিতে হইবে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও জনবল। শহরের অভিজাত এলাকায় মশার উত্পাত দেখিয়া প্রমাণিত হয়, এখানকার অধিবাসীদেরও পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতার অভাব রহিয়াছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই অভাব আরো বেশি থাকিবার কথা। তাহা হইলে মশক নিধন কার্যক্রম সারাদেশের জন্য কেন গ্রহণ করা হইবে না?