তাঁতিদের মেধা মনন ও নারীর ভালোবাসায় টিকে আছে জামদানি শিল্প

 ‘জামদানি : বাংলাদেশের বিশ্বনন্দিত ঐতিহ্য’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

ইত্তেফাক রিপোর্ট

করোলা, তেরছা, জলপাড়, কলকা, কুলতা, ময়ূরপ্যাঁচ পাড়, জুঁই ফুল, পুঁই লতা—এই বাহারি নাম জামদানি শাড়ির নকশার। নামগুলোর মতোই বৈচিত্র্য থাকে জামদানি প্রতিটি শাড়ির বুননে। ঐতিহ্যময় জামদানি শাড়ি, আর তার রং ও তাঁতশিল্পীদের বুননের বৈচিত্র্যের বৃত্তান্ত নিয়ে লেখক-গবেষক মালেকা খান লিখেছেন, ‘জামদানি: বাংলাদেশের বিশ্বনন্দিত ঐতিহ্য’ শীর্ষক গ্রন্থ। গ্রন্থে বংশপরম্পরায় তাঁতিদের জীবন আর আর্থসামাজিক অবস্থান, জামদানির ইতিহাসও স্থান পেয়েছে। রয়েছে ১১১ পৃষ্ঠার ফটো অ্যালবাম আর গুরুত্বপূর্ণ অংশের ইংরেজি তর্জমা।

গতকাল সোমবার জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে লেখক মালেকা খান প্রবীণ তাঁতি আবুল কাশেমকে উল্লেখ করে জানান, কীভাবে যুগ যুগ ধরে এই ঐতিহ্য তারা নতুন প্রজন্মের হাতে তুলে দেন।

প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, এমপি। তিনি বলেন, ২০১৬ সালে ইউনেস্কো জামদানিকে বাংলাদেশের ঐতিহ্য বলে স্বীকৃতি দেয়। সরকার এর পৃষ্ঠপোষকতায় কাজ করছে। বইটির প্রচার ও প্রসারে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সহযোগিতা করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।

বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। তিনি জামদানিকে তাঁতির কাপড়ে কবিতা উল্লেখ করে বলেন, জামদানিকে পুরুষের টাইসহ বিভিন্ন ব্যাবহারিক বস্তুতে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। তিনি বলেন, শিল্পকে না বাঁচালে সংস্কৃতি বাঁচবে না।

বিশেষ অতিথি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. রওনক জাহান জানান, তিনি বিভিন্ন দেশে ঢাকাই শাড়ি পরেই দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। তার মতে নারীর শাড়িপ্রীতি আর তাঁতির শিল্পমন টিকিয়ে রেখেছে এই শিল্প। বইটি বিদেশিদের উপহার হিসেবে চমত্কার বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গ্রন্থের প্রকাশক, ইত্তেফাক ও অনন্যা সম্পাদক তাসমিমা হোসেন। তার মতে জামদানিশিল্প ইউনেস্কো স্বীকৃতিপ্রাপ্ত আমাদের ঐতিহ্য। এই স্বীকৃতি প্রাপ্তির পথ তৈরির ক্ষেত্রে মালেকা খানের মতো গুণী মানুষের ভূমিকা আছে। জামদানিকে টিকিয়ে রাখা আর নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই বই ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি মনে করেন।

বিশেষ কাগজে মুদ্রিত ২৪০ পৃষ্ঠার এই বইয়ের দাম ১ হাজার ৫০০ টাকা। উল্লেখ্য, গত বছর এই লেখকের দেশের নকশিকাঁথা নিয়েও একটি গবেষণা বই প্রকাশ করেন উক্ত প্রকাশক।