উন্মুক্ত দলবদলে ক্রিকেটারদের স্বস্তি

স্পোর্টস রিপোর্টার

সিলেটে তখন তামিম ইকবাল সেঞ্চুরি করে ফেলেছেন। ১৫০ এর দিকে ছুটছেন এই বাঁহাতি ওপেনার। মিরপুর স্টেডিয়ামের সিসিডিএম কার্যালয়ে (ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস) টিভি স্ক্রিনের সামনে দাঁড়িয়ে তাসকিন আহমেদ বলছিলেন, আজ তামিম ভাইয়ের ২০০ করার ভালো সুযোগ আছে।

পাশ থেকে কেউ একজন ফোঁড়ন কাটল, যে বোলিং আক্রমণ জিম্বাবুয়ের, তুমিও নেমে ফিফটি মেরে দিতে পারবা। তাসকিন দ্বিমত করেননি। তবে বলেছেন, যাই হোক ভাই, ১৫০-২০০ করা কখনোই সহজ নয়। বোলিং আক্রমণ যেমনই হোক।

তামিম আউট হওয়ার পরই ২০১৯-২০২০ মৌসুমের জন্য ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে নাম লিখিয়েছেন তাসকিন আহমেদ। গতকাল দলবদলের প্রথম দিনে বেশ ফুরফুরে মেজাজেই দেখা গেছে তাসকিনসহ অন্য ক্রিকেটারদের। বিশেষ করে দলবদলে উন্মুক্ত পদ্ধতি ফিরে আসায় স্বস্তিতে ক্রিকেটাররা। দুই আসর পর পুরোনো পদ্ধতিতে ফিরেছে দলবদল। ক্লাবের সঙ্গে দর কষাকষি করে ক্রিকেটাররা পারিশ্রমিক ঠিক করেছেন। পছন্দের ক্লাব বেছে নিয়েছেন।

প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবে নাম লেখানো রনি তালুকদার বলছিলেন, ‘অবশ্যই ভালো লাগছে এভাবে দলবদল করতে পেরে। এটা তো সবাই চায়। ক্রিকেটারদের জন্য ভালো। সবাই চাইবে প্রতি বছর এভাবেই হোক।’

ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকে লাগাম টানতে ক্লাবগুলোর দাবির মুখে লিগের দলবদলে প্লেয়ার বাই চয়েজ পদ্ধতির প্রবর্তন হয় ২০১২-১৩ মৌসুমে। পরের মৌসুমে লিগ হয়নি। ২০১৪-১৫ মৌসুমে ফিরে আসে পুরোনো উন্মুক্ত পদ্ধতি। ২০১৫-১৬ তে আবার প্লেয়ার বাই চয়েজ, ২০১৬-১৭ মৌসুমে উন্মুক্ত পদ্ধতি এবং পরের দুই মৌসুমেই প্লেয়ার বাই চয়েজ পদ্ধতিতে হয়েছে দলবদল।

গত বছরের শেষ দিকে ক্রিকেটারদের আন্দোলনের ফসল হিসেবে এবার উন্মুক্ত পদ্ধতিতে হচ্ছে দলবদল। এই পদ্ধতি ক্রিকেটারদের খুব পছন্দ। গতকাল শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবে নাম লেখানো মোহাম্মদ আশরাফুল বলছিলেন, ‘এটা তো সবাই খুব পছন্দ করে। এটা তো সবাই চায়।’

তবে ফিটনেসে অনেক উন্নতি করা আশরাফুলের এবার দল পেতে কষ্ট হয়েছে। তার মতোই সিনিয়র অনেক ক্রিকেটারই দল পেয়েছেন অনেক পরে। প্রত্যাশিত পারিশ্রমিকও পাননি। তাই পরিপূর্ণ আশরাফুলের কণ্ঠে কিছুটা অতৃপ্তি ধরা পড়ল, ‘এইবার উন্মুক্ত হওয়াতে আমি কিন্তু মনে করি না যে সকল ক্রিকেটার তার মন মতো যে চাহিদাটা, সেটা পেয়েছে। অনেক প্লেয়ারের কিন্তু টিম পেতে কষ্ট হয়েছে। তো আমি জানি না আসলে এটা কি কারণে, অন্যবারের থেকে একটু কঠিনই  হয়েছে।’