মোরেলগঞ্জে বড়পরি খালে স্লুইস গেট পুনর্নির্মাণের দাবি

জলাবদ্ধতায় ব্যাহত হচ্ছে ফসল উত্পাদন

মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) সংবাদদাতা

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার খাউলিয়া ইউনিয়নের বড়পরি গ্রামের খালের ওপর একটি স্লুইস গেট ভেঙে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে এই স্লুইস গেটটি অকেজো হওয়ায় এলাকাবাসী দুর্ভোগে পড়েছেন। আসছে বর্ষা মৌসুমের আগেই এ স্লুইস গেটটি পুনঃনির্মাণের দাবিতে গত এক সপ্তাহ আগে আবেদন করেছেন তারা। সরেজমিনে জানা গেছে, স্বাধীনতা পূর্ব প্রায় ৫০ বছর আগে এ গ্রামে ৩৫/১ পোল্ডারের অধীনে এ স্লুইস গেটটি নির্মিত হয়। জলাবদ্ধতা ও ফসলি জমি রক্ষায় এ গেটটি নির্মাণ করা হয়। প্রায় দশ বছর ধরে এ স্লুইস গেটটির অবকাঠামো ভেঙে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। আর এ কারণে বর্ষা মৌসুম এলেই এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। হাজার হাজার একর ফসলি জমি জলাবদ্ধ হয়ে উত্পাদন হ্রাস পেয়েছে।

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ইসাহাক আলী হাওলাদার, মুক্তিযোদ্ধা ওয়াদুদ ফরাজী, ব্যবসায়ী ফজলুল হাওলাদার, কৃষক নিজাম উদ্দিন, কৃষানি সালেহা বেগম ও সুফিয়া বেগম জানান, মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা  উপজেলার সীমান্তবর্তী ফকিরবাড়ি বড়পরি খালের এ স্লুইস গেটটি পথের বাজার, বুড়ির বাজার, বানিয়াখালী, কুমারখালী হয়ে শরণখোলার ধানসাগর গ্রামের পানি নিষ্কাশনের জন্য ব্যবহূত হয়ে আসছিল। দীর্ঘ বছর ধরে এ গেটটি ভেঙে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে জলাবদ্ধতার কারণে ১০ হাজার একর ফসলি জমি পানির নিচে পড়ে থাকে।  যার কারণে আমন মৌসুমে বীজ বপন করতে দীর্ঘসূত্রিতায় পড়তে হয় কৃষকদের। খাউলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল খায়ের বলেন, বড়পরি এলাকার স্লুইস গেটটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ হয়ে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। পানি চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার হয়নি। স্লুইস গেটটি পুনঃনির্মাণ হলে হাজারও পরিবার দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড খুলনা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম বলেন, স্থানীয়দের সমস্যা ও দাবির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আপাতত ঐ স্লুইস গেটটি পূর্বের বরাদ্দ দিয়ে মেরামত করা হবে।