করোনা ভাইরাস ও বাংলাদেশের প্রস্তুতি

সারাবিশ্বে নভেল করোনা ভাইরাস ছড়াইয়া পড়িতেছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী পৃথিবীর ৭৮টি দেশে করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ২০০ ছাড়াইয়া গিয়াছে এবং ইহাতে আক্রান্ত হইয়াছে প্রায় ৯৩ হাজার। এখনো ইহার ঔষধ বা প্রতিষেধক আবিষ্কার হয় নাই। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত বিশ্ববাসীকে কোথায় নিয়া যায় তাহা আমরা নিশ্চিত করিয়া বলিতে পারি না। ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্য করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় ‘যুদ্ধ পরিকল্পনার’ কথা প্রকাশ করিয়াছে। সেইখানকার পুলিশ নিম্নস্তরের অপরাধকে বাদ দিয়া কেবল ইহার বিস্তার রোধে কাজ করিবে এবং প্রয়োজনে সেনা মোতায়েন করা হইবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গোটা পৃথিবীতে জরুরি অবস্থা জারি করিয়াছে। এমতাবস্থায় এই মরণব্যাধি করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি কেমন বা ইতিমধ্যে যেই সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইয়াছে তাহা কি পর্যাপ্ত?

এখন পর্যন্ত তিন দেশে সর্বমোট ছয় বাংলাদেশি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হইয়াছেন। বাংলাদেশেও ছয় জনকে আইসোলেশনে রাখা হইয়াছে। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত ও শ্রীলঙ্কায় ইহাতে অনেকে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হইতেছে যে, বাংলাদেশেও শীঘ্রই ইহা ছড়াইয়া পড়িতে পারে। বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ জনবহুল একটি দেশ। এই দেশে সংক্রমণ দেখা দিলে পরিস্থিতি কী দাঁড়াইবে তাহা নিয়া অনেকে উদ্বিগ্ন। করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় ইতিমধ্যে বাংলাদেশ কতগুলি পদক্ষেপ গ্রহণ করিয়াছে, যেমন—এই ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে রাজধানীতে পাঁচ জনকে আইসোলেশনে (পৃথক) রাখা, অতিরিক্ত সতর্কতা হিসাবে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, বেসরকারি হাসপাতাল ও প্রতি জেলায় সরকারি হাসপাতালে আইসোলেশন ইউনিট বা ওয়ার্ড চালু করা, ঢাকার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা, এই সকল হাসপাতালে গাউন, মাস্ক ও গ্লাভস যথেষ্ট পরিমাণে সরবরাহ ইত্যাদি। ইহা ছাড়া দেশের বিমানবন্দরে ইরান, ইতালি, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকদের অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা আপাতত স্থগিত করিবার পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া দেশের বাহিরে না যাইতে ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশে না আসিবার আহ্বান জানানো হইয়াছে।

বিশেষজ্ঞরা বলিতেছেন, ২০০২ সাল হইতে চীনে মহামারি আকারে ছড়াইয়া পড়া সার্স নামের যে ভাইরাসের সংক্রমণে পৃথিবীতে ৭৭৪ জনের মৃত্যু হইয়াছিল, তাহাও ছিল এক ধরনের করোনা ভাইরাস। জ্বর, শুকনা কাশি, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ইত্যাদি ইহার উপসর্গ। সার্স ভাইরাস যেমন—বাদুড়, খাটাশ, বিড়ালের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়াইয়াছিল, মার্স ছড়াইয়াছিল উট হইতে, তেমনি বেলুগা তিমির মতো সমুদ্রগামী কিছু স্তন্যপায়ী প্রাণী এই ভাইরাস ছড়াইয়াছে বলিয়া বিজ্ঞানীরা ধারণা করিতেছেন। বাজারে অহরহ বিচরণ করা মুরগি, বাদুড়, খরগোশ ও সাপও ইহার প্রথম বাহক হইতে পারে। অতএব, করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় আমাদের প্রত্যেককে সচেতন ও দায়িত্বশীল হইতে হইবে। ইহার মোকাবিলায় আক্রান্তদের আবদ্ধ জায়গায় রাখিয়া প্রয়োজনীয় চিকিত্সা ও পরীক্ষানিরীক্ষা করাই উত্তম উপায়। ইহা ছাড়া গণজমায়েতের প্রতি নিষেধাজ্ঞা জারি করা, কর্মস্থলে জীবাণুনাশক ঔষধ ব্যবহার করা ইত্যাদি উদ্যোগ নেওয়া যাইতে পারে।