হুজুগে নয়, সভ্য জাতি হওয়া জরুরি

হাওলাদার মুহা. হাসিব

উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরাও হাঁটছি উন্নত দেশের পথে। ইতিমধ্যে, নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতিও পেয়েছি। জাতিসংঘের এমডিজি (মিলিনিয়াম ডেভলপমেন্ট গোলস) পূরণ করে এসডিজিতেও (সাসটেইনেবল ডেভলপমেন্ট গোলস) ইতিবাচক সফলতা পেয়েছি। যার ফলে এটা বলা একদম অশোভনীয় নয় যে, আমরা খুুব অল্প সময়ের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশের তালিকাভুক্ত হচ্ছি। উন্নত দেশের সঙ্গে দেশ উন্নত হলেও আমরা কি অতটা উন্নত হতে পেরেছি? মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন কি তেমনভাবে লক্ষ্য করা যায়? উন্নত দেশের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে লক্ষণীয় হচ্ছে তারা জাতি হিসেবে সভ্য। আমাদের শিক্ষার আলো গ্রাম থেকে গ্রামান্তর গিয়ে পৌঁছলেও শিক্ষার মূল লক্ষ্য কি আদৌ হাসিল হয়েছে?

বলা হয়ে থাকে শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড, আমাদের তো মেরুদণ্ড দিন দিন বাড়ছে অথচ শিক্ষার মূল লক্ষ্য জনসাধারণের মধ্য থেকে হুজুগে মনোভাব দূর করে জাতিকে নৈতিক করে তোলা এবং সকল বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা তা এখনো কি আমাদের পক্ষে অর্জন করা সম্ভব হয়েছে? জনসাধারণের সচেতনতা তৈরি না হওয়ার ফলে কিছুদিন পরপরই সমাজে অপ্রীতিকর ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। উদাহরণস্বরূপ, পদ্মা সেতুতে লাগবে শিশুর মাথা, নিখোঁজ হয়ে গেছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, বেসিনে হারপিক ঢাললে মরবে এডিস মশা—এমন সব গুজব ছড়িয়েছে বাংলাদেশে। গুজবে কান দিয়ে জামায়াত নেতা সাঈদীকে চাঁদেও দেখেছিলেন কেউ কেউ। এখন তো আধুনিকতার ছোঁয়ায় প্রযুক্তির অপব্যবহারে প্রতিনিয়তই সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে ঘটছে ভিত্তিহীন খবর যা গুজবের থেকে কম ভয়ংকর নয়। যার ফলে একই বছরের ২০ অক্টোবর ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ঘটে যায় বছরের সবচেয়ে নিন্দিত কাজটি যেটা অতীতে ঘটে যাওয়া নাসিরনগর ঘটনাকেও হার মানায়। এর পুরোটাই ঘটে ধর্মান্ধতার মতো ভয়ংকর অসচেতনার ফলে। এগুলো বুঝতে পেরেই হয়তো কবিগুরু বলেছিলেন :

৭ কোটি বাঙালিরে হে মুগ্ধ জননী রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করনি।

এ হুজুগে অবস্থান খুব শিগগিরই পরিবর্তন করা না গেলে রাষ্ট্রের জন্য ভয়ংকর অশনি সংকেত আসছে। এ অবস্থান পরিবর্তনে সকলের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। হুজুগে অবস্থানের পরিবর্তন করতে হলে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার প্রাথমিক পর্যায় থেকে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তকের শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে মুক্তচিন্তা চর্চা করতে অভ্যস্ত করতে হবে কেননা মুক্তচিন্তা চর্চা একটি সভ্য সমাজ গড়ে তুলতে সক্ষম। প্রকৃত অর্থে যারা মুক্তচিন্তা চর্চা করেন তাদের চিন্তায় পরশ্রীকাতরতা, ধর্মান্ধতা, প্রতিবন্ধকতা কিংবা সীমাবদ্ধতার প্রভাব থাকতে পারে না।

সরকার চাইলে গুজববিরোধী দিবস ঘোষণা করতে পারে কারণ আমরা যেহেতু দিবস প্রিয় জাতি সেহেতু অন্যান্য দিবসের মতো এ দিবসটি পালন করা হবে। প্রতি বছর ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে এর সক্রিয়তা সমাজ তথা রাষ্ট্রে চলমান রাখবে। তাহলে হয়তো এ জাতি ক্রমানুযায়ী সভ্য হতে থাকবে।

আমরা চাই উন্নত জাতি হিসেবে পরিচয় দেওয়ার আগে সভ্য জাতি হিসেবে পরিচয় পেতে।

n লেখক :শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়