ঝিনাইদহে মাইকের শব্দে অতিষ্ঠ স্থানীয়রা

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

পথে বের হলেই মাইক ও সাউন্ড বক্সের শব্দ। চারদিকে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও ব্যবসার জন্য প্রচারণায় ব্যবহূত হচ্ছে মাইক। ঘরের জানালা-দরজা বন্ধ করেও উচ্চ আওয়াজের হাত থেকে রেহাই মেলে না। রিকশা-ভ্যান, ইজিবাইকে মাইক বেঁধে প্রচার চালানো হচ্ছে। মাইক বাজাতে প্রশাসনের অনুমতির কেউ তোয়াক্কা করছেন না।  নারিকেলবাড়ীয়া কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও মানবাধিকার কর্মী আমিনুুর রহমান বলেন, মাইক ও সাউন্ড বক্সের বিকট শব্দ এখন বড়ো সমস্যা। সব জায়গায় মাইকের উত্পাত। এসব শব্দদূষণ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। দেখা গেছে, উচ্চৈ শব্দের দাপটে স্কুল-কলেজে ক্লাস নিতে অসুবিধা হয়। শব্দদূষণে শ্রবণশক্তি হারিয়ে যেতে পারে। হূদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রোগীদের অসুবিধা হচ্ছে। ৬৫ ডেসিবলের বেশি আওয়াজে শ্রবণশক্তির ক্ষতি হয়। মাইকের পাশাপাশি এখন চালু হয়েছে বিকট শব্দের সাউন্ড বক্স। আগে সভা-সমাবেশের প্রচারের জন্য মাইক বাজানো হতো। এখন পোলট্রি মুরগি বিক্রি, মোহিষের মাংস বিক্রি, ডাক্তারদের রোগী ধরার প্রচারণায় মাইক বাজানো হয়ে থাকে। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময়ও বেজে ওঠে বিকট আওয়াজের সাউন্ড বক্স। এরপর বাস-ট্রাকের হাইড্রোলিক হর্নেও ব্যাপক শব্দদূষণ চলছে। মাঝেমধ্যে বাস-ট্রাক থেকে হাইড্রোলিক হর্ন অপসারণে অভিযান চালায় ট্রাফিক পুলিশ। তবু এর ব্যবহার থামছে না।

ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক সালাউদ্দিন বলেন, বাস-ট্রাকের হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধে অভিযান চালাই। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ বন্ধ হচ্ছে না। মাগুরা মেডিক্যাল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. অলোক কুমার সাহা জানান, উচ্চ শব্দের মাইক ও সাউন্ড বক্সের আওয়াজ  শ্রবণশক্তির ক্ষতি করছে। অনেকে ক্রমাগত শব্দদূষণে শ্রবণশক্তি হারাচ্ছেন। উচ্চৈ শব্দে মানুষের হার্টবিট বেড়ে যায়।

জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ বলেন, ‘শব্দদূষণ রোধে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে। এ ব্যাপারে আবার অভিযান চালানো হবে।’