মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি
ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের দুই পার্শ্বে পল্লী বিদ্যুত্ বিভাগের স্থাপন করা ৫ সহস্রাধিক খুঁটি আগামী ৮ মার্চের মধ্যে অপসারণের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। জেলার চারটি পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির সঙ্গে যোগাযোগ কিংবা নোটিশ/চিঠি এবং বিকল্প লাইন তৈরির সুযোগ না দিয়ে সওজ বিভাগ এমন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বলে অভিযোগ স্থানীয় পল্লী বিদ্যুত্ কর্তৃপক্ষের। এ নিয়ে সরকারি দুই সংস্থার মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে টানাপোড়েন।
এদিকে, এমন বিজ্ঞপ্তির বিষয়টি জানাজানি হলে কুমিল্লা ইপিজেডসহ জেলার পল্লী বিদ্যুতের চারটি সমিতির অধিভুক্ত এলাকার ছোটো-বড়ো অন্তত ১০ হাজার শিল্প প্রতিষ্ঠানসহ ১৭ লক্ষাধিক গ্রাহকের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রামের মোহাম্মদ আলী (ফেনী সীমানা) পর্যন্ত ৯৭ কিলোমিটারে দীর্ঘবছর ধরে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো অপসারণের বিষয়ে সওজ-কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহ স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার (সরকারি ছুটির দিন) পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মোস্তাফিজুর রহমান, সমিতি-২ এর জিএম মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং সমিতি-৩ এর জিএম মো. আলী হোসেন। তারা সাংবাদিকদের বলেন, ‘কুমিল্লায় পল্লী বিদ্যুতের চারটি সমিতির অধীন মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের দুই পার্শ্বে ৫ হাজারের বেশি বৈদ্যুতিক খুঁটি রয়েছে। এসব সমিতির আওতায় কুমিল্লা ইপিজেডসহ জেলার ছোটো-বড়ো অন্তত ১০ হাজার শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং ১৭ লক্ষাধিক গ্রাহক রয়েছেন। খুঁটিগুলো উচ্ছেদের জন্য আমাদের সঙ্গে ন্যূনতম ফোনালাপ-পত্রালাপ, নোটিশ/চিঠি প্রেরণ কিংবা কোনো ধরনের যোগাযোগ না করেই সওজ-কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী আকস্মিকভাবে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন। এতে আমরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছি। তারা আরো বলেন, ‘বিকল্প বিদ্যুত্ লাইন তৈরি করার সুযোগ না দিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে ৫ হাজার খুঁটি সরানোর এমন বিজ্ঞপ্তি আমাদের হতাশ করেছে। এটা অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার। কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের জন্য আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
সওজ-কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ‘পল্লী বিদ্যুতের খুঁটিগুলো সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ভূমিতে মহাসড়কের উভয়পার্শ্বে স্থাপন করা আছে। আগামী ৮ মার্চ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, এস্টেট ও আইন কর্মকর্তা এবং সওজ কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করে খুঁটিগুলো উচ্ছেদ করা হবে। এসব খুঁটি নির্ধারিত সময়ের পূর্বে নিজ দায়িত্বে ও খরচে সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হবে না, উচ্ছেদ অভিযানকালে যে কোনো ক্ষয়ক্ষতির জন্য সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি দায়ী থাকবেন।’ পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির সঙ্গে কোনো প্রকার পূর্ব যোগাযোগ কিংবা নোটিশ/চিঠি প্রেরণ না করে বহু বছরের পুরোনো খুঁটিগুলো সরানোর জন্য এতটা কম সময় দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বিষয়ে জানতে চাইলে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না বলে জানান ঐ কর্মকর্তা।