দেবব্রত মুখোপাধ্যায়, সিলেট থেকে
ম্যাটের উইকেট, সাদা পোশাক, লাল বল; সীমিত ওভারের ক্রিকেটের এই চিত্রটা নব্বই দশক থেকেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কিন্তু বিলুপ্ত এই ব্যাপারটাই এবার ফিরে আসছে সিলেটের ক্রিকেটে।
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে তখন চলছে চকচকে ওয়ানডে ক্রিকেট। সজ্জা ও প্রস্তুতির কোনো কিছুতে ঘাটতি নেই। স্টেডিয়ামের গায়েই চলছে আউটার স্টেডিয়াম, খেলোয়াড়দের ডরমিটরি, অ্যাকাডেমি বানানোর বিরাট কর্মযজ্ঞ। এসব দেখে বোঝারই উপায় নেই দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ক্রিকেট কেন্দ্রের ঘরোয়া ক্রিকেটের অবস্থা বেশ খারাপ। এ যেন সুরম্য প্রাসাদের পাশে ঢেকে রাখা দারিদ্র্য।
সিলেট বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটা জায়গা। বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেটে এই বিভাগীয় শহরের অবদান নিতান্ত কম নয়। এখনো জাতীয় দলের আশেপাশে আছেন আবু জায়েদ রাহি, খালেদ হোসেন, জাকির হাসানরা। এখান থেকে জাতীয় দলে খেলে গেছেন তাপস বৈশ্য, অলক কাপালি, এনামুল হক জুনিয়র কিংবা রাজিন সালেহ। সেই শহরটির প্রধান ক্রিকেট লিগ, প্রথম বিভাগ ক্রিকেট এবার আয়োজিত হচ্ছে ম্যাটে। সেই সাথে স্পন্সর সংকটের কারণে খেলাও হবে এবার সাদা পোশাকে।
এই বিভাগীয় শহরের ক্রিকেটের করুণ অবস্থা বোঝাতে গিয়ে সিলেট ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম চৌধুরী নাচন বলছিলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরেই সিলেটের ক্রিকেট পেছাচ্ছে বলা যায়। লিগ সময়মতো হয় না। প্রতি বছর আন্দোলন করে লিগ মাঠে গড়াতে হয়। রেলিগেশন, প্রমোশন নেই। এবার দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেট হবে না বলে জানিয়েও দেওয়া হয়েছে। মানে, ক্রিকেটার উঠে আসার উপায়টা নেই।’
এবারও ক্রিকেট লিগ মাঠে গড়ানোর জন্য দেনদরবার করতে হয়েছে খেলোয়াড়দের। এবারের মূল সংকটটা ছিল মাঠের। ক্রিকেট লিগ হয় জেলা স্টেডিয়ামে। কিন্তু সেই মাঠ ফুটবলের জন্য শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে লিগ আয়োজনের জন্য মাঠই পাওয়া যাচ্ছিলো না। অবশেষে অনেক চেষ্টার পর ক্যাডেট কলেজ মাঠে ম্যাট বিছিয়ে খেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সিলেট প্রথম বিভাগ ক্রিকেট কমিটির সেক্রেটারি এ টি এম ইকরাম বলছিলেন, এই মাঠের সংকট না থাকলে এই অবস্থা হতো না। তিনি বলছিলেন, ‘অন্যান্য বছর আমরা সময় মতো ন্যাচারাল টার্ফে লিগ করি। কিন্তু এবার শেখ রাসেল জেলা স্টেডিয়াম পেয়ে গেছে। ডিসেম্বরের মধ্যে ওরা ছেড়ে দেবে বলে কথা ছিল। তা না হওয়ায় আমরা সময়মতো লিগ করতে পারিনি। আর এখন ম্যাটেই করতে হচ্ছে। তবে এটা এ বছরই হবে। এরপর থেকে আমরা আবার ন্যাচারাল টার্ফে ফিরে যাবো।’
এখন সিলেটের ক্রিকেটাঙ্গন চেয়ে আছে আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের পাশের আউটার স্টেডিয়ামের দিকে। এটা হয়ে গেলে সমস্যার সমাধান হবে বলে বিশ্বাস করেন ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও দেশের অন্যতম সেরা স্পিনার এনামুল হক জুনিয়র। তিনি বলছিলেন, ‘মাঠের সমস্যাটা তো একটা বাস্তবতা। এটা ঠিক যে, ম্যাটে খেলাটা আদর্শ নয়। এতে খেলোয়াড় উঠে আসবে না। আজকের দিনে এভাবে ক্রিকেট হয় না। কিন্তু মাঠ সংকটই আসলে এই বিপদে ফেলেছে আমাদের। আমরা এবারের মতো এটা মেনে নিয়েছি। নইলে এবার লিগই হতো না। আশা করি আউটার স্টেডিয়াম তৈরি হয়ে গেলে আর সমস্যা থাকবে না।’
এ টি এম ইকরামও একই কথা বললেন। তিনি আশা করছেন, এই সমস্যা স্থায়ী হবে না, ‘বিভাগীয় স্টেডিয়ামটা আমরা এর মধ্যে পেলে লিগের পরের অংশটা চেষ্টা করব ওখানে করার। আর আগামী বছর থেকে আউটার রেডি হয়ে যাবে। তখন আর এই সমস্যা হবে না।’