থানায় ডেকে নিয়ে যুবককে পুলিশের লাঠিপেটা ও লাথি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ ফাঁড়ির ভেতরে জাবেদ মিয়া (২৮) নামে এক যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী লাঠিপেটা ও লাথি মেরে নির্যাতন করেন ওই ফাঁড়ির দুই এসআই মজিবুর রহমান ও আশরাফ। জাবেদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে আঘাতের চিহ্ন। জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে সে। 

পুলিশের নির্যাতনের শিকার জাবেদ জেলার সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের কালিকচ্ছ গ্রামের জজ মিয়ার ছেলে। তিনি শহরতলীর ঘাটুরায় শ্বশুর বাড়িতে বসবাস করেন।

জানা যায়, বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে শহরের পুরাতন কারাগারাস্থ ১নং পুলিশ ফাঁড়িতে ফোন করে জাবেদকে ডেকে নিয়ে যান ওই দুই দারোগা। এরপর ফাঁড়ির ভেতরের একটি কক্ষে আটকে এসআই মুজিবুর রহমান ও আশরাফ তাকে লাঠিপেটা করতে শুরু করেন। পাশাপাশি চলতে থাকে লাথি। পুলিশের পাশাপাশি মুক্তা নামে এক তরুণীও যুক্ত হয় মারধরে। 

নির্যাতনের শিকার জাবেদ মিয়া জানান, শহরের তিতাস পাড়ার মুক্তা নামে এক নারী প্রায় তাকে উত্যক্ত করতো। বাড়ি থেকে বের হলেই পথরোধ করে টাকা চাইতো। বিভিন্ন  হুমকি-ধমকি দিতো। বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে মেড্ডা শ্মশান ঘাটের সামনে তাকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মুক্তাসহ কয়েকজন মারধর করে চলে যায়। এরপর পুলিশ দিয়ে ফোন করে আমাকে ফাঁড়িতে ডেকে আনে। পরে পুলিশের সাথে যোগসাজশ করে আমার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। এসআই মুজিবুর ও আশরাফ আমাকে লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকে। এক পর্যায়ে নিচে ফেলে পা দিয়ে লাথি মারতে থাকে। পরে পুলিশের সামনে মুক্তা ও তার বোন আমাকে মারধর করে। অবশেষে আমাকে হুমকি দিয়ে ফাঁড়ি থেকে বের করে দেয়। 

পরে বিষয়টি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানাই। আমি এসআই মুজিবুর ও আশরাফ এবং মুক্তার বিচার চাই। 

জাবেদের মা সখিনা বেগম জানান, অনেক আগে মুক্তার পরিবার জাবেদের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলো। বিয়েতে রাজি না হওয়ায় প্রায় সময় আমার ছেলেকে সে গুণ্ডা নিয়ে মারধর করতো। টাকা চাইতো। বুধবার পুলিশ দিয়ে ছেলেকে মারধর করা হয়। এর আগের দিনও তারা ছেলেকে মারধর করে।

আরও পড়ুন: হৃদয়ঘটিত স্বপ্নে পথেই ধর্ষণ পরে হত্যা, লাশটি আগৈলঝাড়ার ঈশিতা

১নং পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুজিবুর রহমান বলেন, সে মেয়েকে উত্যক্ত করতো। এই বিষয়ে ওসি সাহেবের কাছে সে অভিযোগ দেয়। আমি তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলেছি যা হইবার হইছে। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ওই দুই দারোগা আমার কাছে চর থাপ্পড় দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তারা আমাকে বলেছে সালিশ করার জন্য ওই যুবককে ডেকে ছিলো। আমি তাদের বলেছি তোমরা সালিশ করার কে? মারধর করা ঠিক হয়নি।

ইত্তেফাক/এসি