গণশৌচাগারের অপ্রতুলতা

রাজধানী ঢাকার জনসংখ্যা প্রায় ২ কোটি। এই জনসংখ্যার একটি বড়ো অংশ প্রতিদিন রাস্তায় নামেন কর্মস্থলে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কিংবা অন্যান্য গন্তব্যে পৌঁছাইতে। রাস্তায় দীর্ঘ সময় তাহাদের যানজটে আটকা পড়িয়া থাকিতে হয়। এই সময় পথে বাহির হওয়া মানুষের একটি প্রয়োজনীয় নগরসেবা হইল গণশৌচাগার। প্রত্যাশিত নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করিতে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে দুই ভাগে ভাগ করা হইয়াছে। ইহাতে কিছু কিছু ক্ষেত্রে নাগরিক সুবিধা বাড়িলেও গণশৌচাগার সুবিধা এখনো পর্যাপ্ত পর্যায়ে পৌঁছায় নাই। সম্প্রতি বেশ কিছু গণশৌচাগার নূতন করিয়া নির্মাণ করা হইয়াছে; তবে বলাই বাহুল্য ইহা নিতান্তই অপ্রতুল। ঘনবসতিপূর্ণ এই নগরীতে গণশৌচাগারের খোঁজে হয়রান হইতে হয় নাগরিকদের। বিশেষ করিয়া ভুগিতে হয় নারী, শিশু ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের। দুই সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গিয়াছে, ১৯৬ দশমিক ২২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে পাবলিক টয়লেট আছে ২৫টি। অন্যদিকে ১০৯ দশমিক ২৫১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে পাবলিক টয়লেট আছে মাত্র ৩৭টি।

পর্যাপ্ত গণশৌচাগার না থাকায় নগরবাসীকে যে দীর্ঘ সময় প্রকৃতির ডাক চাপিয়া রাখিতে হয় তাহার ফলে নানাবিধ স্বাস্থ্যগত সমস্যার সৃষ্টি হইতে পারে। বিশেষ করিয়া নারীরা বাহিরে সুস্থ পরিবেশ না পাইলে শৌচাগার ব্যবহার করিতে বিব্রত বোধ করিয়া থাকে। ইহার ফলে নারীদের জরায়ুমুখী ক্যানসার হইতে শুরু করিয়া আরো অন্যান্য স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির সৃষ্টি হয়। উপায় না পাইয়া রিকশাচালকসহ বিভিন্ন অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত শ্রমিকেরা উন্মুক্ত স্থানে প্রস্রাব করিয়া থাকেন। ইহাতে ঢাকা শহরের পরিবেশ দূষিত হইতেছে, যাহা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি সৃষ্টি করিতেছে। ফলে সার্বিকভাবে নগরীর পরিবেশ ও এইখানে বসবাসকারী বিপুলসংখ্যক নাগরিকের স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনা করিয়া ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ উভয় মেয়রের কাছে চাওয়া থাকিবে—তাহারা যেন দ্রুত আরো গণশৌচাগার নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। গণশৌচাগারগুলির স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ করা যাইতে পারে। আধুনিক সুবিধার এই শৌচাগারগুলিতে নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা ব্ল­ক, প্রতিবন্ধীদের প্রবেশগম্যতা, নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরা, নিরাপদ খাবার পানি, হাত ধুইবার জন্য তরল সাবান এবং শুকাইবার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, স্যানিটারি ন্যাপকিন, টিস্যু পেপারের ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশের জন্য উপযোগী ব্যবস্থা থাকিতে হইবে। ইহা সময়ের দাবি। ইহা ছাড়া নারীদের শৌচাগারের অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে নারীকর্মী নিয়োগ, শৌচাগার চত্বরে সবুজ বেষ্টনী স্থাপন এবং দিকনির্দেশনামূলক সাইনেজও স্থাপন করিতে হইবে। এইগুলির পরিষ্কার-পরিছন্নতার দিকেও বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।