অণুগল্প

ভাইবোন

হাফিজ উদ্দীন আহমদ

 

যেমন ভাই তেমন বোন। শক্তিতে কেউ কারো চেয়ে কম না। মাঝে মাঝে কে বড়ো এই নিয়ে তর্কাতর্কি হয় ওদের। মা এসে বকা দেন, তোর সার্স চাচার কত দাপট ছিল। ২০০৩ সালে দুনিয়াটাই কাঁপিয়ে দিয়েছিল। সবাই ভয়ে থরথর করত। আর তুই কী করিস?

—আমিও করব মা।

—করবি কচু। সারা দিন বোনটার পিছে লেগে থাকিস। ছোটো বোনটাকে একটু আদর করতে পারিস না?

—মা, আমার মাথায় মুকুট আছে। ওর তো নেই।

—আবারো ঝগড়া?

মা রাগ করেন। সে কথা মনে রেখেই চীনের উহান থেকে ফিরে একটু আগে আদরের মামাতো বোন ইবোলার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল করোনা জাপানি কোম্পানি থেকে তার প্রতি বিশেষ সম্মান দেখিয়ে বানানো টয়োটা করোনা গাড়ি চড়ে। কতদিন দেখে না তাকে। কিন্তু পেল না তাকে ঘরে। সে নাকি বিশেষ জরুরি কাজে কঙ্গো ও গ্যাবন গিয়েছে। মন খারাপ করে গাড়ি চালিয়ে ফিরতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মারা গেল পথে। একই পথে যাচ্ছিল বাতাস। প্রাণহীন করোনাকে দেখে দয়ায় গলে পড়ল তার শরীর। লাশটা কাঁধে উঠিয়ে দাফন করার জন্য নিয়ে চলল সে। কিন্তু কী তাজ্জব একটু যাবার পরই সে লাশ সামনের লোকটার নাকে লাফিয়ে চলে গেল। তার দেহকোষে ঢোকার পরই জীবন্ত হয়ে উঠল সে। বাড়িঘর বানিয়ে সংসার পাতল তারপর। ছানাপোনা হয়ে পরিবারের সদস্য বাড়ল অল্পদিনেই। এখন এক বাড়িতে আর স্থান সংকুলান হয় না। নাকে এসে সুড়সুড়ি দিতে লাগল লোকটার। এর মাঝে ১৪ দিন কেটে গেছে। সুড়সুড়ি সামাল দিতে না পেরে বারবার হাঁচতে থাকল সেই লোক। কাশিও যোগ হলো। ঘুসঘুসে জ্বর মায় বুকে পানি এসে গেল। সেই সুইমিং পুলে সাঁতরে বেড়াতে লাগল করোনা। লোকটার গায়ের এই গরম আর কাঁহাতক সহ্য করা যায়। আরেকবার জোরে হাঁচি দিতেই অনেকগুলো ছেলেপেলেসহ লাফিয়ে বের হয়ে লুটিয়ে পড়ল রাস্তায়। মুহূর্তে প্রাণ চলে গেল তাদের। আবার পা চেপে ধরল বাতাসের। বাতাস রাজি হলো না প্রথমে। কিন্তু ওর মনটা বড়ো নরম। কারো কষ্ট দেখতে পারে না। এবারো কাঁধে নিল তাদের। কিছুদূর এসেই শপিং করতে থাকা কয়েকজন নারী-পুরুষকে সামনে পেয়ে ওয়ান টু থ্রি বলে একযোগে ছানাপোনা সমেত ফুড়ুত্ করে একেকজন ঢুকে পড়ল একেকজনের নাকে। তারপর সটান ফুসফুসে। আবারো ঝামেলা। নতুন করে ঘর বানাতে হবে।