সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের ছয়টি আসনেই প্রচার-প্রচারণার দিক দিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছে। নির্বাচনের দিন এগিয়ে এলেও এখনও বিএনপি প্রার্থীদের মাঠে দেখা যাচ্ছে না। আওয়ামী লীগের প্রার্থীসহ দলীয় নেতাকর্মীরা ভেদাভেদ ভুলে একসাথে রাত-দিন নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়ালেও বিএনপি প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের দেখা মিলছে না।
সিরাজগঞ্জ জেলার উত্তর জনপদের যমুনা নদী পরিবেষ্টিত কাজীপুর উপজেলা। এই উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা এবং সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চারটি ইউনিয়ন নিয়ে সিরাজগঞ্জ-১ সংসদীয় আসন গঠিত। আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র আধিপত্য রয়েছে এ আসনে। স্বাধীনতার পর থেকে আজ অবধি আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো দল নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারেনি এ আসন থেকে।
সিরাজগঞ্জ জেলার আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত সিরাজগঞ্জ-১ (কাজিপুর)। এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহম্মদ নাসিম। আগামী নির্বাচনে তিনিই বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হবেন বলে ভোটারদের ধারণা। অপরদিকে বিএনপির প্রার্থী কণ্ঠশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনক চাঁপা। এখন পর্যন্ত তিনি এলাকায় ভোটারদের কাছে যাননি। যে কারণে এলাকার ভোটাররাও তাকে চেনেন না। এর প্রভাব নির্বাচনে পড়বে বলে এলাকার সচেতন মহল মনে করছে। এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আল-আমিন সিরাজী হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।
সিরাজগঞ্জ সদর-২ আসনটি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা ও কামারখন্দ উপজেলা নিয়ে গঠিত। সদরের আটটি ও কামারখন্দ উপজেলার চারটি ইউনিয়ন রয়েছে এ আসনে। সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। অপরদিকে বিএনপি প্রার্থী সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের স্ত্রী রুমানা মাহমুদ। তিনি এখনও নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেননি। তাছাড়া নির্বাচনী এলাকায় কোনো পোস্টারও চোখে পড়েনি। এই আসনে বাসদের নবকুমার কর্মকার মই এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোঃ মহিবুল্লাহ হাতপাখা প্রতীকে নির্বাচন করছেন।
সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার ৯টি ও তাড়াশের আটটি ইউনিয়ন নিয়ে সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ ও তাড়াশ) আসন। এই আসনে আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী হয়েছেন নবীন প্রার্থী ডা. মোঃ আব্দুল আজিজ এবং বিএনপি থেকে সাবেক সাংসদ আব্দুল মান্নান তালুকদার। নির্বাচনে বড় দুই দলের হাড্ডাহাডি ভোট যুদ্ধ হবে বলে ভোটারদের ধারণা। তবে এ আসনে জামায়াতেরও রয়েছে বড় ভোট ব্যাংক। এছাড়া মোঃ আইনুল হক ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাত পাখা, মোঃ আলমগীর হোসেন জাকের পার্টি গোলাপ ফুল, মোঃ আহসান হাবিব সুজন স্বতন্ত্র সিংহ, মোঃ নুরুল ইসলাম পিডিপি বাঘ এবং শেখ মোঃ মোস্তফা নুরুল আমীন সিপিবি কাস্তে প্রতীকে নির্বাচন করছেন।
সিরাজগঞ্জ-৪ সংসদীয় আসনটি উল্লাপাড়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। ১৯৯৬, ২০০৮ এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনে আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে থাকে। এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমামের ছেলে সাংসদ তানভীর ইমাম। বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে জামায়াত নেতা মওলানা রফিকুল ইসলাম খানকে। এই আসনে জামায়াতের রয়েছে বড় ভোট ব্যাংক। তবে আওয়ামী লীগের ব্যাপক উন্নয়নের প্রভাব নির্বাচনে পড়বে বলে ভোটারদের অভিমত। এছাড়া আব্দুর রহমান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাত পাখা, মোঃ জহির রায়হান জাকের পার্টি গোলাপ ফুল, মোঃ মুকুল হোসেন এনপিবি আম প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সিরাজগঞ্জ-৫ আসনটি বেলকুচি ও চৌহালী উপজেলার মোট ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সাংসদ আব্দুল মজিদ মন্ডলের ছেলে আব্দুল মমিন মন্ডল এবং বিএনপির প্রার্থী ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বর্তমান কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীম। জামায়াতের আলী আলম স্বতন্ত্র প্রার্থী। এছাড়া এই আসনে মোঃ আব্দুল নুর বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি কোদাল, মোহাম্মদ আলী আলম স্বতন্ত্র আপেল, মোঃ মুক্তার হোসেন জাতীয় পার্টি লাঙ্গল ও মোঃ লোকমান হোসেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাত পাখা প্রতীকে নির্বাচন করছেন।
সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনটি ১৩ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এই আসনে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছে বর্তমান এমপি মোঃ হাসিবুর রহমান স্বপনকে এবং বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে নবাগত এমএ মুহিতকে। এছাড়া এই আসনে মিসবাহ উদ্দিন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাত পাখা, মোঃ আব্দুল আলিম ফকির বাসদ মই, মোঃ মাসুদুর রহমান স্বতন্ত্র সিংহ এবং মোঃ হাবিবুর রহমান বাংলাদেশ মুসলীম লীগ হারিকেন প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।