ছয় ধরনের অপরাধ নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুলিং

দিদারুল আলম

র্যাগিংয়ের মতো ভয়ংকর এক নিপীড়নের পদ্ধতি বুলিং। সরকারি-বেসরকারি স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এখন বুলিংয়ে জড়িয়ে পড়ছে। এই বুলিং প্রতিরোধের উপায় খুঁজছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তারা এরই মধ্যে খসড়া নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। ঐ নীতিমালায় ছয় ধরনের বুলিংকে অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, বুলিং এক ধরনের মৌখিক, মানসিক বা শারীরিক পীড়ন। ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে একজনকে বারবার বিভিন্নভাবে ভয় দেখানো, আক্রমণ করা এবং ইচ্ছাকৃত ও অপ্রয়োজনীয়ভাবে শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে এক বা একাধিক শিক্ষার্থী দ্বারা অন্য কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষার্থীদের ওপর হিংসাত্মক আচরণকে বুলিং হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। নীতিমালায় মৌখিক, শারীরিক, সামাজিক, সাইবার, যৌন ও বর্ণগত—এই ছয় ধরনের বুলিংয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে সম্প্রতি এই খসড়া নীতিমালা দাখিল করা হয়। এ প্রসঙ্গে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার ইত্তেফাককে বলেন, খসড়া নীতিমালায় আরো কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্তির নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এগুলোর মধ্যে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল, মাদ্রাসা ও কোচিং সেন্টারগুলোকে এই নীতিমালার আওতায় আনতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে র্যাগিংকে অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে। আদালত বলেছে বুলিং ও র্যাগিং প্রতিরোধে কঠোর নীতিমালা করতে হবে এবং সেটার প্রয়োগ হবে আরো বেশি কঠোর।

ছয় ধরনের বুলিং :মৌখিক :কাউকে উদ্দেশ্য করে এমন কিছু বলা বা লেখা, যা খারাপ কোনো কিছুর প্রতি ইঙ্গিত বহন করে। শারীরিক :কাউক কোনো কিছু দিয়ে শারীরিকভাবে আঘাত করা। সামাজিক :সামাজিক স্ট্যাটাস, একক বা দলগত বন্ধুত্ব বা পারস্পরিক সম্পর্ক, ধর্মীয় পরিচিতি বা বংশগত অহংবোধ থেকে কোনো শিক্ষার্থীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা বা তা করতে প্ররোচিত করা। সাইবার :বন্ধুদের মধ্যে কারো সম্বন্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূ কিছু লিখে বা অশালীন কিছু পোস্ট করে তাকে অপদস্থ করা। যৌন :অপ্রত্যাশিতভাবে শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করা বা করার চেষ্টা, ইঙ্গিতবাহী চিহ্ন প্রদর্শন, কয়েক জন মিলে জামাকাপড় খুলে নেওয়া বা খুলতে বাধ্য করা। বর্ণগত :জাতি, বর্ণ, গোত্র, ধর্ম, পেশা এমনকি গায়ের রং নিয়েও বুলিং করা হয়।

প্রতিরোধে করণীয় :নীতিমালায় বলা হয়েছে, বুলিংয়ের বিরুদ্ধে মা-বাবা, অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ, কর্মচারী ও অন্যান্য শিক্ষার্থী সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেসব জায়গায় বুলিং হবার সম্ভাবনা থাকে সেসব জায়গা খুঁজে বের করে যথাযথ মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। বুলিং সম্পর্কিত সিনেমা, কার্টুন, টিভি সিরিজের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সামনে বুলিং আচরণগুলো তুলে ধরতে হবে।