জেলার মাটিরাঙ্গার গাজীনগরে বাগানের গাছ কাটা ও পরিবহনকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষে বিজিবির সদস্য শাওন খান নিহতের ঘটনায় বিজিবির হাবিলদার ইসহাক আলীর মামলা পুলিশ গ্রহণ করলেও নিহত চার গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে মামলা দিতে গেলে মাটিরাঙ্গা থানার ওসি সেই মামলা গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে মাটিরাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামসুদ্দিন ভূঁইয়া গ্রামবাসীর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, কেউ এ পর্যন্ত মামলা দিতে আসেননি, কেউ মামলা দিতে চাইলে অবশ্যই তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে গ্রহণ করা হবে।
নিহত মো. মফিজ মিয়ার ছেলে মো. মানিক মিয়া জানান, তিনি গত বৃহস্পতিবার মাটিরাঙ্গা থানায় গিয়ে ৪০ বিজিবির হাবিলদার ইসহাক আলীর নাম উল্লেখ করে মামলা করতে চাইলে পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে নিরুত্সাহিত করা হয়। কিন্তু মাটিরাঙ্গা থানার ওসি জানান, তার থানায় এ ধরনের অভিযোগ বা মামলা নিয়ে কেউই আসেননি। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীর মামলা গ্রহণ না করায় ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয়ের পাশাপাশি পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে এলাকাবাসী।
মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র মো শামছুল হক ও ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. এমরান হোসেন সাংবাদিকদের জানান, থানায় ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের মামলা গ্রহণ না করা একজন নাগরিকের আইনগত অধিকারের পরিপন্থি। ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, বিজিবির মিথ্যা মামলার কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভয়ভীতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। গ্রামের সাধারণ মানুষ গ্রেফতারের আতঙ্কে দোকানপাট বন্ধ রেখে বাড়িঘর ছেড়ে বনে-জঙ্গলে রাত কাটাচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্কের পাশাপাশি ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এদিকে গ্রামবাসীর দাবি, গত মঙ্গলবার বিজিবির হাবিলদার মো. ইসহাক আলী কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই আহাম্মদ আলী, আকবর আলী, সাহাব মিয়া (মুছা মিয়া) ও মফিজ মিয়াকে অত্যন্ত কাছ থেকেই গুলি করে হত্যা করেছে। কিন্তু সত্য ঘটনা আড়াল করতেই উলটো সাধারণ মানুষের নামে মিথ্যা মামলা করেছে বিজিবি। এ মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করা হলেও অজ্ঞাতনামা আরো ৬০-৭০ জনকে আসামি করায় গোটা গ্রামের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এলাকার আইনশৃঙ্খলার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন কাজ করছে জানিয়ে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিভীষণ কান্তি দাশ এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাধারণ মানুষ যেন কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করা হবে।’