আগামী ১৭ মার্চ ঢাকায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। তার এই প্রস্তাবিত সফরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরালো হবে। মোদির সফরে দুই দেশ আঞ্চলিক আন্তঃযোগাযোগ বৃদ্ধিতে নতুন উদ্যোগের উদ্বোধন করতে পারে, যা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশকে আরো যুক্ত হতে সহায়তা করবে।
ভারত সরকারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নয়াদিল্লি ও ঢাকা বাংলাদেশের উত্তর-দক্ষিণের নদীগুলোর নাব্য বাড়াতে একটি উদ্যোগ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরীণ বন্দরগুলোর সুযোগ-সুবিধা বাড়াতেও দুই দেশ যৌথ উদ্যোগের ঘোষণা দিতে পারে। এই সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে এবং পরবর্তী সময়ে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে আন্তঃযোগাযোগকে আরো সহজ করতে পারে।
গত সপ্তাহে ঢাকা সফরকালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস্)-এর অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা দুই দেশের পরিকল্পনায় থাকা কিছু উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দুই দেশ কুশিয়ারা ও যমুনা নদীতে ড্রেজিংয়ের ব্যাপারে একমত হয়েছে। এছাড়া নৌপথে যোগাযোগ বাড়াতে আরো কিছু পদক্ষেপ নেবে। আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর ফলে দুই দেশের অর্থনীতি উপকৃত হবে। এই অংশীদারিত্ব দ্বিমুখী আস্থা অর্জনের জন্য, একপক্ষীয় নির্ভরতার জন্য নয়।
গত মাসে দিল্লিতে বাংলাদেশ, ভুটান, ইন্ডিয়া ও নেপালের (বিবিআইএন) মধ্যে বিবিআইএন মোটর ভেহিক্যালস অ্যাগ্রিমেন্ট (বিবিআইএন এমভিএ) বিষয়ক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে ২০১৫ সালের ১৫ জুন বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপালের মধ্যে স্বাক্ষরিত মোটর ভেহিক্যালস অ্যাগ্রিমেন্ট (এমভিএ) বিষয়ক যাত্রী ও কার্গো প্রটোকল নিয়ে আলোচনা হয়, যা যাত্রী চলাচল নিয়ন্ত্রণ, পারসোনাল অ্যান্ড কার্গো ভেহিকুলার ট্র্যাফিক বিষয়ে এমভিএ চুক্তি কার্যকর করবে। তারা আঞ্চলিক সংযুক্তি বৃদ্ধির মাধ্যমে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং মানুষে মানুষে যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব দেন।
গত বছরের অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে দুই দেশ বাংলাদেশ-ভারত মোটর ভেহিক্যালস অ্যাগ্রিমেন্ট নিয়ে আলোচনা করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে চারটি প্রস্তাব দেন।
ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন প্রজেক্ট আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগের অন্যতম উদাহরণ। এই পাইপলাইন পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি এবং বাংলাদেশের পার্বতীপুরকে সংযুক্ত করবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে আসামের নুমালিগড় পরিশোধনাগারে ডিজেল সরবরাহ করা হবে।