এইচ এম আমীন, কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) সংবাদদাতা
ঢাকার কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুর, দোলেশ্বর, জাজিরা ও মোল্লারহাট এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই অবৈধভাবে বছরের পর বছর চলছে ২৫০ ইটভাটা। ইটভাটার কালো ধোঁয়ার কারণে ঐ এলাকাগুলোর জমিতে ফসল ফলছে না। হাজার হাজার একর জমি অলস পড়ে আছে এবং কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এছাড়া ইটভাটাগুলোতে অবৈধভাবে কাঠ, গাড়ির টায়ার ও কয়লা পোড়ানোর কারণে আশপাশের এলাকাসহ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে (কেরানীগঞ্জ) বন্দি হাজার হাজার হাজতিসহ কারারক্ষী, কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অনেকেই শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছেন।
রাজেন্দ্রপুর এলাকায় কেন্দ্রীয় কারাগারের দেয়ালের চারপাশে রেয়েছে ১৫টি অবৈধ ইটভাটা। এসব ইটভাটার কালো ধোয়া ও গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে কারা কর্তৃপক্ষ জেলখানার আশপাশ থেকে ঐ অবৈধ ইটভাটাগুলোকে বন্ধ করার জন্য গত দুই বছরে পরিবেশ অধিদপ্তরে ১২ বার চিঠি দিয়েও সেগুলো বন্ধ করতে পারেনি।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে দুই-চারটি ইটভাটাকে ৩-৪ লাখ টাকা জরিমানা করেন। তবে তাতে কোনো কাজ হয়নি। রাজধানী ঢাকা এবং কেরানীগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া, টঙ্গী, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জসহ ঢাকার আশপাশের এলাকার পরিবেশ দূষণমুক্ত করতে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হাইকোর্টের একটি রিটপিটিশন, মামলা নম্বর ৩৬৭৬/২০১০ এর আদেশে বলা হয় বুড়িগঙ্গা নদীর পানি দূষণকারী ডাইং কারখানা ও রাজধানীর আশপাশ এলাকার সব ইটভাটা বন্ধ করতে পরিবেশ অধিদপ্তরের ডিজিকে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু গত ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত হাইকোর্টের এ আদেশ পালন করতে ব্যর্থ হয় পরিবেশ অধিদপ্তর। আর এ কারণে হাইকোর্টের জ্যৈষ্ঠ বিচারপতি গত জানুয়ারি মাসে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে হাইকোর্টে তলব করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বুড়িগঙ্গা নদীর পানি দূষণ ও বায়ু দূষণ রোধে রাজধানীর আশপাশ এলাকার সব ইটভাটা বন্ধ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু হাইকোর্টের ঐ আদেশের পরও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে ১৫টি অবৈধ ইটভাটাসহ ২৫০ ইটভাটা কেরানীগঞ্জে এখনো চালু রয়েছে।