ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম একটি কালো দিক ------- পরিকল্পনামন্ত্রী

খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকার আপসহীন। তবে সরকার ইচ্ছা করলেই প্রক্রিয়াগত কিছু কারণে দ্রুতগতিতে খেলাপি ঋণ আদায় করতে পারে না। ব্যাংকিং খাতের আত্মসাত্কৃত অর্থ আদায়ে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করার কথা বলা হলেও এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া। তবে প্রচলিত আইনে দ্রুত বিচারের মাধ্যমে আত্মসাত্কৃত অর্থ আদায়ের চিন্তা-ভাবনা সরকার করছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর এফডিসিতে আয়োজিত ‘আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে ব্যাংক কমিশন গঠন নিয়ে এক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় আমন্ত্রিত অতিথিরা এসব কথা বলেন। ডিবেট ফর ডেমোক্র্যাসি এই বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত এই বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, ঘরে ঘরে বিদ্যুত্, সাক্ষরতার হার বৃদ্ধিসহ আর্থসমাজিক খাতে বাংলাদেশের ব্যাপক উন্নয়ন হলেও ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম আমাদের জন্য একটি কালো দিক। অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে আমরা গর্ববোধ করলেও ব্যাংকিং খাতের চালচিত্র নিয়ে আমরা গর্ববোধ করি না। প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, উন্নয়ন হচ্ছে, আবার লুটপাটও হচ্ছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে ব্যাংকিং খাতের কারসাজির কারণে দেশে আয় বৈষম্য বাড়ছে। এক্ষেত্রে ব্যাংক কমিশন গঠন একটি ভালো পদক্ষেপ হতে পারে। যদিও এবিষয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে মতদ্বৈততা রয়েছে। আর্থিক খাতের সুষ্ঠু বিকাশের জন্য আস্থা, দায়বদ্ধতা ও বিশ্বস্ততা খুবই প্রয়োজন। 

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্র্যাসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, খেলাপি ঋণের লাগাম টেনে ধরে আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে স্বাধীন ব্যাংক কমিশন গঠন করতে পারাটা হবে সরকারের জন্য একটা সাহসী পদক্ষেপ। গত এক দশকে অর্থনীতিতে সরকারের অনেক সফলতা থাকলেও ব্যর্থতার তালিকাটাও ছোটো নয়। বিশেষ করে একের পর এক ঋণ কেলেঙ্কারি, অর্থ আত্মসাত্, রিজার্ভ চুরি, বেসিক ব্যাংকের জালিয়াতি, ফারমার্স ব্যাংকের পতন, পিপলস লিজিংয়ের অবসায়ন, খেলাপি ঋণের আকার বৃদ্ধি, পুুঁজি বাজারের কারসাজি, শেয়ার মার্কেট লুট, চিহ্নিত ঋণখেলাপিদের বারবার সুযোগ প্রদান ইত্যাদি কলঙ্কিত ঘটনা আর্থিক খাতকে ব্যাপক দূর্বল করে ফেলেছে। তাই স্বাধীন ব্যাংক কমিশন গঠন করে আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। তবে রাজনৈতিক সদিচ্ছাই পারে আর্থিক খাতে লুটতরাজের এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রিয়াজুর রহমান চৌধুরী ও অ্যাকাউন্টিং অ্যালামনাই সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ তোফায়েল আহমেদ।

গ্র্যান্ড ফাইনালে বিজয় নিশান দলকে পরাজিত করে উত্তাল মার্চ দল চ্যাম্পিয়ন হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টি অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আল আমিন, প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টেন্ট আবুল বশির খান, এফসিএমএ, সাংবাদিক দৌলত আক্তার মালা, নারী উদ্যোক্তা সানজিদা আক্তার খানম, উন্নয়ন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. এস এম মোর্শেদ। প্রতিযোগিতা শেষে চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ দলকে যথাক্রমে নগদ ১ লাখ ও ৫০ হাজার টাকার চেকসহ ক্রেস্ট, ট্রফি ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।