‘থ্যাংক ইউ ক্যাপ্টেন’

সাইফউদ্দিনের ইয়র্কারে ছত্রখান চার্লটন শুমার স্টাম্প। জিম্বাবুয়েকে অলআউট করার সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টিসীমায় চলে আসল প্রিয় অধিনায়কের বিদায় লগ্ন। উইকেট উদ্যাপন সম্পন্ন করতেই মেহেদী হাসান মিরাজ ও সাইফউদ্দিনরা ছুঁটে গেলেন মাশরাফি বিন মুর্তজার দিকে। জয়ের আনন্দ ছাপিয়ে অলক্ষ্যে যেন একটা বিষাদের ছায়া নেমে আসে পুরো স্টেডিয়ামে। কারণ ততক্ষণে মাশরাফির নামের পাশে যুক্ত হয়ে গেছে ‘সাবেক’ শব্দটি।

মাশরাফির কাঁধ থেকে হাত সরাচ্ছিলেন না তামিম ইকবাল। হ্যান্ডশেক পর্ব শেষে অগ্রজকে কাঁধে তুলেই সীমানা দড়ি পর্যন্ত গেলেন তামিম। মিরাজ, তাইজুল, মাহমুদউল্লাহরাও পিছু ছাড়েননি। কিছুক্ষণ পর অভূতপূর্ব এক দৃশ্যের অবতারণা হয়। মাঠে খেলেছেন একজন মাশরাফি; কিন্তু ফ্লাডলাইটের কৃত্রিম আলোয় সিলেট স্টেডিয়ামে ধরা পড়ল অনেক ‘মাশরাফি’। তামিম, লিটন, আফিফ, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ, মুস্তাফিজ—সবার শরীরে একই জার্সি! তারা সবাই তখন মাশরাফি। প্রিয় অধিনায়কের নাম লেখা ২ নম্বর জার্সি জড়িয়ে মাঠে হাজির ক্রিকেটাররা। সবার জার্সির সামনে লেখা, ‘থ্যাংক ইউ ক্যাপ্টেন’।

গতকাল সিলেটে এভাবে দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের সেরা অধিনায়ককে সম্মান জানালেন টাইগাররা। পরে মাহমুদউল্লাহ একটি স্মারক জার্সি তুলে দেন দেশের ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া মাশরাফির হাতে। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনও ক্রেস্ট তুলে দেন তার হাতে।

বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে ওয়ানডেতে জয়ের ‘হাফ সেঞ্চুরি’র গৌরব গতকাল যুক্ত হয়েছে মাশরাফির অর্জনের তালিকায়। সিলেটে গতকাল জিম্বাবুয়েকে বৃষ্টি আইনে ১২৩ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। টাইগারবাহিনী আফ্রিকার দলটিকে ধবলধোলাইয়ের স্বাদ উপহার দিল প্রেরণাদায়ী চরিত্র মাশরাফিকে। নেতৃত্বের শেষ ম্যাচেও দলের জয়ে অবদান রেখেছেন এই লড়াকু ক্রিকেটার। বল হাতে নিয়েছেন ১ উইকেট।

পুরস্কার বিতরণীর আগে অধিনায়কের স্তুতি ঝরেছে সবার কণ্ঠে। তামিম, লিটন, মাহমুদউল্লাহ, মুশফিকরা কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন, ধন্যবাদ দিয়েছেন, শুভকামনা জানিয়েছেন মাশরাফিকে। সতীর্থদের এই উপহারে আপ্লুত ছিলেন নড়াইল এক্সপ্রেস। ছল ছল চোখে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সতীর্থদের, বিসিবিকে।

পুরস্কার বিতরণীতে মাশরাফি বলেছেন, ‘এই সময়ে কথা বলা খুব কঠিন। আমি সত্যিই খুশি যে ছেলেরা সিরিজটা ৩-০ তে জিতেছে। তাদের কাছ থেকে, কোচদের কাছ থেকে যে সমর্থন পেয়েছি আমি, তা অসাধারণ।’ পরে ধারাভাষ্যকার আতাহার আলী খানের কাছে মাইক চেয়ে বলেছেন, ‘বিশেষ করে সাকিবকে ধন্যবাদ। সে এখানে থাকলে অন্যরকম হতো। সাকিব, আমি তোমাকে মিস করছি।’

আকরাম-সুজন-পাইলটদের সঙ্গে শুরুটা হয়েছিল মাশরাফির। সমবয়সি আশরাফুল-আফতাবদের সঙ্গে খেলেছেন। সাকিব-তামিম-মুশফিকদের প্রজন্মের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়েছেন মাশরাফি। তাদের নেতৃত্বে খেলেছেন, তাদের নেতৃত্ব দিয়েছেন। সৌম্য-লিটন-তাসকিনরা তার কাছ থেকে পেয়েছেন বড়ো ভাই, নেতার ছায়া। শেষটায় আফিফ-শান্তদের শুরুটাও তার হাতেই হলো। কয়েক প্রজন্মের সঙ্গী মাশরাফির ‘অধিনায়ক’ অধ্যায়ের ইতি ঘটল দাপুটে জয়ের রোমাঞ্চে। লিটন ম্যাচ সেরা হয়েছেন ১৭৬ রানের ইনিংস খেলে। তবে সিরিজ সেরা হয়েছে এই সিরিজে দুটি করে সেঞ্চুরি করা তামিম ও লিটন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ৪৩ ওভারে ৩২২/৩

জিম্বাবুয়ে: ৩৭.৩ ওভারে ২১৮

ফল: বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশ ১২৩ রানে জয়ী

সিরিজ: বাংলাদেশ ৩-০ তে সিরিজ জিতল