নগর সংস্কৃতি

চারুকলায় জয়নুল উত্সব

চারুকলার ৭০ বছরপূর্তি এবং দেশের আধুনিক শিল্পকলার পথিকৃত্ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের জন্মদিনকে কেন্দ্র করে উত্সবের আয়োজন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। গতকাল মঙ্গলবার শুরু হয়েছে পাঁচদিনের জয়নুল উত্সব।এ উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে জয়নুল মেলার। মেলায় অংশ নিয়েছে অঙ্কন চিত্রায়ন, ভাস্কর্য, প্রাচ্যকলা, মৃিশল্পসহ অনুষদের আটটি বিভাগ। এছাড়ায় মেলায় ঠাঁই পেয়েছে শাঁখারীবাজারের শঙ্খশিল্প, রংপুরের সতরঞ্জি, যশোরের নকশীকাঁথা, ঝিনাইদহের শোলাশিল্প, ধামরাইয়ের ধাতবশিল্প, মৌলভীবাজারের শীতলপাটি, রাজশাহীর শখের হাঁড়ি ও সোনারগাঁয়ের কাঠের পুতুলের স্টল। অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনীতে পুরস্কারপ্রাপ্ত চারুশিক্ষার্থীদের শিল্পকর্ম নিয়ে ১ ও ২ নং জয়নুল গ্যালারিতে সাজানো সপ্তাহব্যাপী প্রদর্শনীটি শুরু হয়েছে ২৩ ডিসেম্বর থেকে। চলবে উত্সবের শেষ দিন ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আগামী ২৯ ডিসেম্বর শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের জন্মদিন। এ দিন, জয়নুল উত্সবের সমাপনী দিন। সমাপনী দিনের সকালের আয়োজনে প্রদান করা হবে জয়নুল সম্মাননা।

এ দিকে, গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন। উপাচার্যের নেতৃত্বে বের করা হয় র্যালি। উদ্বোধনী পর্বে অনুষ্ঠানে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ, অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন, শিল্পাচার্যের পুত্র প্রকৌশলী ময়নুল আবেদিন, অধ্যাপক রফিকুন নবী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানীসহ চারুকলা অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

উত্সবের প্রথম দিন সকাল থেকে রাত অবধি চারুকলার বকুলতলা মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় অনুষদের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। পরিবেশনার পাশাপাশি এই মঞ্চে স্মৃতিচারণ পর্বে অংশ নেন বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার ও আনোয়ার হোসেন। এ ছাড়া, সাংস্কৃতিক পর্বে সেতারে সুর ছড়িয়েছেন আলিফ লায়লা। প্রদর্শিত হয়েছে প্রামাণ্যচিত্র। পৌষের সন্ধ্যায় গানে গানে উত্সব জমে উঠে । শিল্পাচার্যের জন্মদিনে বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর মাধ্যমে নিয়মিতভাবে জয়নুল উত্সবের সূচনা হয় ১৯৮৮ সাল থেকে। শুরুর দিকে ছাত্ররাই এই আয়োজন করতো। পরবর্তীতে ২০০৯ সাল থেকে বৃদ্ধি পায় এ উত্সবের কলেবর।