গ্রিস-তুরস্ক সীমান্তে অভিবাসী-শরণার্থী উত্তেজনা

গত সপ্তাহখানেক ধরিয়া গ্রিস-তুরস্ক সীমান্তে জড়ো হইতে থাকা বিপুলসংখ্যক শরণার্থী ও অনুমতিহীন অভিবাসীদের সহিত গ্রিস পুলিশের সংঘর্ষ ঘটিয়াছে শনিবার। এই সকল লোক স্থল-সীমান্ত ও সমুদ্রপথ ব্যবহার করিয়া যে কোনোভাবেই ইউরোপে প্রবেশের জন্য মরিয়া হইয়া এতদিন ধরিয়া তুরস্কে অবস্থান করিতেছিল। তুরস্ক হইতে ইউরোপে প্রবেশের ক্ষেত্রে গ্রিস ও বুলগেরিয়া হইতেছে প্রধান দুই প্রবেশদ্বার। উল্লেখ্য, গত কিছু দিন ধরিয়াই ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতি অঙ্গীকার বরখেলাপের অভিযোগ আনিয়া সীমান্ত শিথিল করিয়া দেওয়ার হুমকি প্রদান করিতেছিল তুরস্ক। দেশটিতে বর্তমানে শরণার্থী ও অবৈধ অভিবাসীর মোট সংখ্যা প্রায় ৪ মিলিয়ন। ইহার মধ্যে সাড়ে ৩ মিলিয়নের অধিক হইতেছে সিরিয়ার শরণার্থী। গত ডিসেম্বর মাস হইতে সিরিয়ার ইদলিব অঞ্চলে সরকারি বাহিনীর সহিত বিদ্রোহীদের প্রচণ্ড সংঘাতের পরিণতিতে তুরস্কে সিরিয়া শরণার্থীর সংখ্যা হঠাত্ করিয়াই কয়েক লক্ষ বাড়িয়া গিয়াছে।

ইউরোপ ঢুকিতে উদ্গ্রীব অবৈধ অভিবাসী ও শরণার্থীদিগকে  ঠেকাইয়া রাখিবার শর্তে ইতিপূর্বে ইইউ-এর সহিত তুরস্কের ৬ বিলিয়ন ইউরোর একটি চুক্তি হইয়াছিল। স্মরণযোগ্য, ২০১৫ সালে একযোগে ১ মিলিয়নের অধিক শরণার্থী ইউরোপে ঢুকিয়া পড়িবার পরে ইইউ এই চুক্তিটি করিয়াছিল। কিন্তু তুরস্ক অনেক দিন ধরিয়াই শরণার্থী সংখ্যার ক্রমবৃদ্ধির কথা বলিয়া ইইউ হইতে অধিকতর সহায়তার দাবি করিতেছিল। পক্ষান্তরে ইইউ চুক্তির শর্তের প্রতি অনড় থাকিবার যুক্তি তুলিয়া ধরিতেছিল।

গ্রিস-তুরস্ক ও বুলগেরিয়া-তুরস্ক সীমান্তে লোক জমায়েত শুরু করিবার পর হইতেই ইউরোপের দেশগুলিতে অস্বস্তি দেখা দিয়াছে। ইতোমধ্যে মন্ত্রী পর্যায়ের একাধিক বৈঠকও অনুষ্ঠিত হইয়াছে। এই সকল বৈঠকে শরণার্থী-তাস ব্যবহার করিবার জন্য, তুরস্কের কঠোর সমালোচনাও করা হইয়াছে। তবে আসল কথা হইতেছে, যত সমালোচনা করাই হউক না কেন ইইউ দেশগুলি কোনোভাবেই তুরস্ককে বাদ দিয়া ২০১৫ সালের মতো আরেক দফা শরণার্থী-সে াতের ঝুঁকি লইবার দিকেও হাঁটিতে পারিতেছে না। কেননা, তুরস্কের সীমান্ত শিথিলের অর্থ হইতেছে মিলিয়ন শরণার্থীর আবারও ইউরোপ অভিমুখে অগ্রসর হওয়া। আর এই স্রোত ঠেকাইতে হইলে বল প্রয়োগ হইয়া উঠিবে অনিবার্য। বিশ্বব্যাপী সমালোচিত হইবার ভয়ে অন্তত পশ্চিম ইউরোপের কোনো দেশ সেই দিকেও অগ্রসর হইতে চাহিবে বলিয়া মনে হয় না। এমতাবস্থায় প্রকাশ্যে বা অন্তরালে যেমন করিয়া হউক ইইউকে তুরস্কের সহিত একটি সমঝোতাতে আসিতে হইবে বলিয়াই মনে হয়। আরো একটি কারণেও এই রাস্তা অনুসরণ করা হইবে বলিয়া অনুমান করা যায়। ইতিপূর্বে শরণার্থীবিষয়ক আন্তর্জাতিক সনদের ভিত্তিতে ইউরোপের দেশগুলি সিরীয় শরণার্থীর বোঝা ভাগাভাগি করিবার কথা হইয়াছিল। একমাত্র জার্মানি ব্যতীত আর কোনো দেশ সেই শর্ত পূরণ করে নাই। নতুন করিয়া শরণার্থী ঢুকিলে সেই দায়িত্বের কথাও যে নতুন করিয়া সামনে আসিয়া পড়িবে তাহা বলাই বাহুল্য। তুরস্ক অনেক কিছু হিসাব করিয়াই নতুন চালটি চালিয়াছে বলিয়া মনে হয়।