মতিঝিল থেকে ৮ কোটি টাকাসহ ঠিকাদার গ্রেফতার

রাজধানীর মতিঝিল থেকে ৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। এসব টাকা ভোট কেনার জন্য বহন করা হচ্ছে এমন অভিযোগে এক ঠিকদারসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনে কালো টাকা প্রভাব বিস্তার করতে পারে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। আগের দিন সোমবার শাহজাহানপুর এলাকায় অবৈধ ভাবে ভোটকেনার জন্য টাকা বিতরণকালে ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাসের দুই কর্মীকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। এসময় তার কাছ থেকে নগদ চার লাখ টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে।

র্যাবের মিডিয়া অ্যান্ড লিগ্যাল শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, মতিঝিল এলাকার সিটি সেন্টারের ২৭ তলায় অবস্থিত ইউনাইটেড করপোরেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে নগদ ৮ কোটি টাকা ১৫ লাখ ৩৮ হাজার টাকা ও ১০ কোটি টাকার চেকসহ আলী হায়দার (৪২) নামে একজন ঠিকাদারকে গ্রেফতার করে র?্যাব-৩। তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)। ওই অফিস থেকে শরীয়তপুর-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মিয়া নূরুদ্দীন আহম্মেদ অপুর নির্বাচনী পোস্টার উদ্ধার করা হয়। পরে আলী হায়দারের দেওয়া তথ্য নিয়ে দুপুরেই গুলশানে মিয়া নূরুদ্দীন আহম্মেদ অপুর কোম্পানি আমেনা এন্টারপ্রাইজে অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) জয়নাল আবেদীন ও অফিস সহকারী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র্যাবের ডিজি বেনজীর আহমেদ জানান, সারাদেশে এই প্রতিষ্ঠান থেকে দেড়শ’ কোটি টাকা ছাড়া হয়েছে। টাকা ছাড়ার পর সারাদেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ছে। সহিসংতার পেছনে এই কালো টাকা ভূমিকা রাখছে। তিনি জানান, সিটি হার্টের ২৭তলায় অবস্থিত ইউনাইটেড করপোরেশনের এই অফিসটি দুই মাস আগে ভাড়া নেওয়া হয়েছে। এর আগে বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ের পাশে ছিল অফিসটি। তারা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। তিনি আরো জানান, দুবাই থেকে হুন্ডির মাধ্যমে এবং স্থানীয়ভাবে এই টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে বেশির ভাগ টাকা হুন্ডির মাধ্যমে আসত এই প্রতিষ্ঠানের নামে। এরপর সারাদেশে ছড়িয়ে তা দেওয়া হতো। সোমবার দুপুরে শরীয়তপুর-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মিয়া নূরুদ্দীন আহম্মেদ অপুকে তিন কোটি ৬০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে এখান থেকে। এরপর সেখানে সহিংসতা হয়েছে বলেও জানান র্যাবের ডিজি। গ্রেফতার জয়নাল আবেদিন ইতোপূর্বে হাওয়া ভবনে কাজ করতেন বলে জানান তিনি।

র?্যাব-৩ এর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত কয়েক মাসে ইউনাইটেড করপোরেশন থেকে কয়েকশ’ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। বিদেশ থেকে এসব টাকা আসছে। মূলত বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীদের কাছে বিভিন্ন সময় এ টাকা সরবরাহ করা হয়েছে। এঘটনায় জড়িত তিনটি প্রতিষ্ঠানেরই মালিক বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তাদের মধ্যে ইউনাইটেড করপোরেশনের মালিক মাহমুদুল হাসান। তার বিরুদ্ধে সোনা চোরাচালানের অভিযোগ রয়েছে। আদালত থেকে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও রয়েছে। অপর প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ। এটির মালিক আতিকুর রহমান। তিনি ঝালকাঠি জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি। গুলশানের আমেনা এন্টারপ্রাইজের মালিক শরীয়তপুর-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মিয়া নূরুদ্দীন আহম্মেদ অপু। তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাস দমন আইনে পৃথক দুটি মামলা হবে। মিয়া নূরুদ্দীন অপু এক সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন।

গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার জুয়েল রানা জানান, সোমবার গ্রেফতার হওয়া শহীদুল ইসলাম ও মুহিত নিজেদের ঢাকা-৮ আসনে বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী মির্জা আব্বাসের কর্মী বলে স্বীকার করেছেন। পরে তাদের ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে কালো টাকা ছড়ানো, টাকা দিয়ে ভোট কেনা নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন। এ বিষয়ে গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।