সবুজবাগে প্রেমিকের সহায়তায় সাবেক স্বামী হত্যা

৯ বছর পর রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেফতার তিন

বিশেষ প্রতিনিধি

ঘটনার ৯ বছর পর রাজধানীর সবুজবাগে চাঞ্চল্যকর গ্রিল ব্যবসায়ী সুজন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছে সাবেক স্ত্রী ও তার দুই ভাই। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— সুজনের সাবেক স্ত্রী আছমা আক্তার ইভা, ইভার দুই ভাই আরিফুল হক আরিফ ও মো. রানা ওরফে বাবু। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার বশির আহমেদ। ২০১১ সালের মার্চ মাসে সুজনকে হত্যা করে খালে ফেলে লাশ গুম করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

এসপি বশির আহমেদ বলেন, দায়িত্ব পাওয়ার পর পিবিআইয়ের বিশ্বস্ত গুপ্তচর ও আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে ঘটনায় জড়িত আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত হই আমরা। গত ২৯ ফেব্রুয়ারি চাঞ্চল্যকর সুজন হত্যা মামলায় সুজনের সাবেক স্ত্রী আছমা আক্তার ইভাকে কুমিল্লা জেলার লাকসাম থানাধীন মধ্য ইছাপুর গ্রামে তার বর্তমান শ্বশুর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর ইভার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার দুই ভাই আরিফুল হক ওরফে আরিফ রানা ওরফে বাবুকে গ্রেফতার করা হয় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন দাপা ইদ্রাকপুর থেকে। ২০০৮ সালে পারিবারিকভাবে সুজন বিয়ে করে ইভাকে। এ বিয়ে মেনে নেয়নি ইভা। ২০০৯ সালে সে স্বামীকে তালাক দেয়। তা সত্বেও সুজন ইভাকে ভুলতে পারেনি। প্রায় সে ইভাদের বাড়ির আশপাশে যাওয়া-আসা করত। এ অবস্থায় ইভার প্রেমিক ফাইজুলসহ ইভার ভাই আরিফ সুজনকে ঘটনাক্রমে দুই একবার মারপিটও করেছিল। ঐ ঘটনার জের ধরে তার ছেলেকে হত্যা করা হতে পারে বলে সুজনের বাবা সন্দেহ করেন।