মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে তাণ্ডব

কক্সবাজারে এক এসআইসহ চার পুলিশ সদস্য সাসপেন্ড

গত বৃহস্পতিবার কক্সবাজারের চকরিয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত আনোয়ার হোসেন বাঙ্গালীর বাড়িতে লুটপাট ও তাণ্ডবের পাশাপাশি বাড়ির লোকজনকে প্রহারের ঘটনায় এক এসআইসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে তাদের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দিয়েছেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন। সাময়িক বরখাস্তকৃতরা হলেন চকরিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তুষ্ট লাল বিশ্বাস ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) জেড রহমান, কনস্টেবল হারুন (৩৬৩) ও নুরুল আলম (৪২৬)। এ ঘটনায় কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. ইকবাল হোসাইনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনার মূল কারিগর হিসেবে উল্লেখ করে চশরিয়া থানার ওসি হাবিবুর রহমানের অপসারণ ও শাস্তি দাবি করে শনিবার বিকেলে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেছে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার লাঞ্ছিত পরিবার।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন জানান, ‘আমি নিজেও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার ঘরে দিনে দুপুরে পুলিশের হামলা এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের মারধরের ঘটনায় আমি লজ্জিত। ইতিমধ্যে দুঃখ প্রকাশ করে লাঞ্ছিত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছি।’ ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, সাগর নামে এক সন্ত্রাসীকে গ্রেফতারের ঘটনা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িসংলগ্ন অপর একটি বাড়িতে সন্ত্রাসী সাগরের স্বজনেরা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। ঘটনাটিকে অতিরঞ্জিত করে স্থানীয় লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন জামায়াতের আমির গোলাম মোস্তফা কায়সার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তথ্য প্রদান করেন। ঐ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান ঘটনাস্থলে ১০ জন পুলিশ পাঠান। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, পুলিশের দলটি ভুলক্রমে সন্ত্রাসী সাগরের বাড়ির পরিবর্তে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বাঙ্গালীর বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালায়।

এদিকে মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বাঙ্গালীর জ্যেষ্ঠ সন্তান রেজাউল করিম সেলিম থানার পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, পুলিশের হামলার সময় লোকজনকে মারধর করা ছাড়াও তার বাড়ি থেকে খোয়া গেছে ৩৫ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৪ লাখ টাকা। রবিবার (৮ মার্চ) আদালতে এ ব্যাপারে মামলা দায়ের করা হবে।

জেলা পুলিশের গঠিত তদন্ত দলের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, এ ঘটনায় যারাই দোষী সাব্যস্ত হবেন, তাদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। তদন্ত টিমের ওপর সবাইকে আস্থা রাখতে অনুরোধ জানান তিনি। এদিকে গতকাল হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেয়র মুজিবুর রহমান, সহসভাপতি রেজাউল করিমসহ নেতৃবৃন্দ। তারা আহতদের চিকিত্সার খোঁজ-খবর নেওয়ার পাশাপাশি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস দেন।