দুই সন্তানকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা!

রাজধানীর খিলগাঁওয়ে নিজের দুই সন্তানকে গলা কেটে হত্যার পর শরীরে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন এক মা। ঐ নারীর নাম আখতারুজ্জামান পপি। হত্যার শিকার দুই সন্তান হলো : মেহজাবিন আলভী (১২) ও জান্নাতুল ফেরদৌস (৭)। শুক্রবার গভীর রাতে খিলগাঁওয়ের দক্ষিণ গোড়ান এলাকার ২৯৭ নম্বর বাসায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ শনিবার সকালে ঐ দুই শিশুর লাশ ও অগ্নিদগ্ধ মাকে উদ্ধার করেছে। নিহত দুই শিশু রাজধানীর ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুলের চতুর্থ ও প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পপির স্বামী মোজাম্মেল হক বিপ্লব ইলেকট্রনিক্স পণ্যের ব্যবসা করেন। তাদের গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে।

পুলিশ জানায়, পপি তার দুই সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে তারা জেনেছেন। তাদের ধারণা দাম্পত্য কলহের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে। দগ্ধ পপি বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিত্সাধীন আছেন। চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, পপির শরীরের ১৮ শতাংশ পুড়ে গেছে। পপির প্রতিবেশী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মেয়ে দুটির লেখাপড়া করানোর জন্য দুই বছর যাবত্ পপি পরিবার নিয়ে ঐ ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন। তবে তার স্বামী গ্রামে থাকতেন। শুক্রবার রাতে পপির স্বামী বাসায় ছিলেন না। শনিবার সকাল পৌনে নয়টার দিকে পপির বাবার চিত্কার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে দেখতে পান ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে গলাকাটা অবস্থায় দুই সন্তান খাটে শুয়ে আছে এবং মেঝেতে লেপ-তোষক দিয়ে মুড়িয়ে শুয়ে আছেন অগ্নিদগ্ধ পপি। পরে পুলিশ এসে শিশু দুটির মরদেহ উদ্ধার ও অগ্নিদগ্ধ পপিকে হাসপাতালে ভর্তি করে।

হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের অবজারভেশন কক্ষে পপি কর্তব্যরত নার্সদের বলেন, গত রাতে (শুক্রবার) আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে ঘুমন্ত দুই শিশু জান্নাত ও আলভীকে হত্যার পরিকল্পনা করি। প্রথমে আগুনে পুড়িয়ে ও পরে বঁটি দিয়ে কুপিয়ে তাদের হত্যা করি। মা হয়ে কেন এমন লোমহর্ষক হত্যার ঘটনা ঘটালেন জানতে চাইলে পপি বলেন, সন্তানদের লেখাপড়া করাতে পারছিলাম না। সংসার চালানো যাচ্ছিল না। স্বামী সংসার খরচ দিতো মাত্র ১ হাজার ১০০ টাকা। ঐ টাকায় কিছুই করা যাচ্ছিল না। এ নিয়ে হতাশা, বেঁচে থাকার নিরাশা থেকেই দুই সন্তানকে খুন ও নিজে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি।

ডিএমপির খিলগাঁও জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) জুলহাস মিয়া জানান, ঐ বাসা থেকে দুই শিশুর লাশ উদ্ধারের পাশাপাশি যে ছুরি ও বঁটি দিয়ে তাদের কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে সেগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া একটি  চিঠি পাওয়া গেছে।

খিলগাঁও থানার ওসি মশিউর রহমান জানান, ঐ বাসায় যে চিঠি পাওয়া গেছে, তাতে সাংসারিক বিভিন্ন ঝামেলার কথা বলা হয়েছে।  এটাকে ‘সুইসাইডাল নোট’ বলা যায় না। তবে ইঙ্গিত বহন করে। তিনি জানান, ঐ নারী অসুস্থ থাকায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করিনি। তিনি দুই সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তার স্বামী বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করবেন। সেখানে একমাত্র পপিকেই আসামি করা হবে।

পপির ভাই অনিক জানান, তার বোনকে দুলাভাই (স্বামী) ঘর ভাড়া, স্কুলের বেতন ও অন্যান্য খরচ তেমন দিতো না। এ কারণে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। সম্প্রতি তাকে ডিভোর্স (তালাক) দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল তার স্বামী। তবে পপির স্বামী মোজাম্মেলের দাবি, তিনি পপিকে সংসারের ব্যয় নিয়মিতই পাঠাতেন। সম্প্রতি বিদেশ যাওয়ার জন্য ভাইদের কাছ থেকে অনেক টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ভাইয়েরা প্রায়ই সেই টাকার জন্য চাপ দিতো। এ নিয়ে তার সংসারে কলহ ছিল। কিন্তু তার স্ত্রী এমন কাণ্ড ঘটাবেন ভাবতে পারেননি।