বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ম্যাচ স্থগিত হতে পারে

করোনা ভাইরাস আতঙ্ক

স্পোর্টস রিপোর্টার

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে উত্তর বারিধারা ক্লাবের খেলা দেখতে গিয়েছিলেন জাতীয় ফুটবল দলের ইংলিশ কোচ জেমি ডে। প্রেসবক্সে বসে খেলা দেখবেন। সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে হাত মেলাতে রাজি না। নিজেই বললেন বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। সারা দুনিয়া এ ভাইরাস নিয়ে উত্কণ্ঠায়। ফিফা এএফসির একাধিক খেলা এরই মধ্যে স্থগিত হয়ে গেছে। ফিফা কাতার বিশ্বকাপ ফুটবল এবং এশিয়ান কাপ ফুটবলের বাছাই ম্যাচে বাংলাদেশের গ্রুপে থাকা ভারত ও কাতার ম্যাচ এরই মধ্যে স্থগিত হয়েছে। আগামী ২৬ মার্চ সিলেটে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান ম্যাচ হওয়ার কথা রয়েছে। আশঙ্কা রয়েছে এই ম্যাচও স্থগিত হয়ে যায় কিনা।

এই ম্যাচ নিয়ে ফিফা হতে এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি। ম্যাচ নিয়ে কিছু একটা খবর আসতে পারে—সেটা ধরেই নিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। আনুষ্ঠানিক এখন পর্যন্ত কোনো খবর পাননি বাফুফের কর্মকর্তারা। তবে বাফুফে হতে এএফসিতে যোগাযোগ করা হয়েছিল। গতকালই দুবাইয়ে একটা মিটিং হয়েছে। যেখানে করোনা ভাইরাস নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কী করণীয় তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাফুফে সূত্রে জানা গেল, মালয়েশিয়ায় মিটিং করা সম্ভব হয়নি বলে দুবাইয়ে মিটিং হয়। যেখানে এএফসি কয়েকজন কর্মকর্তা এবং এএফসির স্পন্সর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। মার্চের খেলাগুলো নিয়ে কী করতে হবে সেটাই এখন সবচেয়ে বড়ো আলোচ্য বিষয়।

বাফুফে ঢাকা হতে ফোন করে খোঁজ নিয়ে জেনেছে, বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ম্যাচটা স্থগিত হয়ে যাচ্ছে। এমন ইঙ্গিত পেয়েছে এএফসি হতে। আনুষ্ঠানিক না জানানো হলেও ফোনে যতটুকু আলোচনা হয়েছে বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ মনে করছেন আগামী ২৬ মার্চ খেলাটা হচ্ছে না।

সোহাগ বললেন, ‘আমরা এএফসিতে কথা বলেছি। ম্যাচ নিয়ে জানতেও চেয়েছি। আলোচনা যা মনে হয়েছে মনে হয় না ২৬ মার্চের খেলাটা হবে। খেলাগুলো স্থগিত করার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। আমরা যতটুকু অনুমান করছি ম্যাচ হবে না। ওরা ইঙ্গিত দিয়েছে দুই একদিনের মধ্যেই চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেবে।’ সোহাগ বলেন, ‘আমরা মঙ্গলবার চিঠি পেয়ে যাব মনে হচ্ছে।’

কীসের চিঠি আসবে খেলা বন্ধ, নাকি খেলা হবে। কোন চিঠি? সোহাগ বলেন, ‘মনে হচ্ছে খেলা স্থগিত হওয়ার চিঠি আসবে। আগে চিঠিটা হাতে পেয়েনি। তারপর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। এখনই বলতে পারব না খেলা হচ্ছে না। যতক্ষণ না পর্যন্ত চিঠি না পাব আমরা কিছুই বলতে পারব না।

করোনো ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত নন জেমি ডে। দেশে ফিরে যাওয়ার প্রশ্নে খেলা আছে মানেই কাজ আছে। ম্যাচের কথা মাথায় রেখে নিজের কাজ সেরে রাখছেন জেমি। ২৬ মার্চ খেলা হলে জেমি বলেছেন তিনি থাকবেন। করোনা ভাইরাস নিয়ে তার কোনো মাথাব্যথা নেই। আর যদি ২৬ মার্চ খেলা না হয় তা হলে জেমি ডে দেশে ফিরে যাবেন বলে গতকাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের প্রেসবক্সে বসে জানিয়ে দিলেন।