চট্টগ্রামে নির্বাচনের আগের শেষ মুহূর্তের প্রচারণা জমে উঠেছে। পুরুষের পাশাপাশি নারী কর্মীরাও স্ব-স্ব প্রার্থীর পক্ষে নারী ভোটারদের মন জয়ের লক্ষ্যে ঘরে ঘরে যাচ্ছেন। চট্টগ্রামে ১৬ আসনে মোট ভোটার ৫৬ লাখ ৩৭ হাজার ৪৫৬। এর মধ্যে নারী ভোটার ২৭ লাখ ২৪ হাজার ৩৯০। ফলে প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ে নারী ভোটারদের বড় ভূমিকা থাকবে। তাই দু’ দলই নারী ভোটারদের ভোট কেন্দে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে নানা তত্পরতা চালাছে।
এদিকে, সেনাবাহিনী নামার পর বিএনপি প্রার্থীদের মাঠে প্রচারণায় আগের চেয়ে কিছুটা বেশি দেখা যাচ্ছে। ১৬টি আসনের মধ্যে এখনও ৬টি আসনে বিএনপি প্রার্থীরা প্রচারণায় আওয়ামী লীগের চেয়ে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। তবে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা আগের মতোই প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে।
চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে সরকার দলীয় প্রার্থী বর্তমান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রতিদিন প্রচারণা চালাছে। তিনি এলাকায় উন্নয়নে তার অবদানের চিত্র তুলে ধরে নৌকা প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করছেন। তার পক্ষে নারীরাও ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। তবে এই এলাকায় বিএনপি প্রার্থী নূরুল আমিনের কোনো তত্পরতা দেখা যাচ্ছে না। তার পোস্টারও নেই এলাকায়।
চট্টগ্রাম-৩ (সীতাকুন্ড) আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী দিদারুল আলম সকাল-বিকাল প্রচারণা চালাচ্ছেন। গতকাল তার প্রচারণা মিছিলে পেট্রোল বোমা হামলায় অন্তত:১০ জন আহত হয়েছে বলে জানা যায়। এই হামলার জন্য বিএনপি-জামায়াতকে দায়ী করেছেন দিদারুল আলম। চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বৃহত্তর বাকলিয়া এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করেছেন। এসময় তিনি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে পিছিয়ে থাকা বাকলিয়ায় উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। চট্টগ্রাম-১০ ও ১১ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী ডা.আফসারুল আমিন ও এম.এ.লতিফ ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিগত সময়েও তারা এলাকার জনপ্রতিনিধি ছিলেন। এসব এলাকায় রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক স্থাপনা। ফলে গত ১০ বছরে সরকার দলীয় দু’প্রার্থী এলাকায় তাদের গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পসহ অন্যান্য অবদানের চিত্র তুলে ধরে ভোট প্রার্থনা করছেন। অন্যদিকে এই দুই আসনে রয়েছে বিএনপির ২ জন প্রভাবশালী প্রার্থী। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বন্দর এলাকা চট্টগ্রাম-১১ আসন থেকে প্রার্থী হয়েছেন। আর চট্টগ্রাম-১০ আসন থেকে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল নোমান। চট্টগ্রামে প্রচারণার মাঠে বিএনপির এই দুই প্রার্থী শুরু থেকে তত্পর রয়েছে। তারা দু’জনেই স্ব-স্ব নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণায় লিপ্ত রয়েছে।
এছাড়া চট্টগ্রামের অন্য আসনগুলোতেও নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা সকাল বিকাল নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তারা এলাকায় কেন্দ ভিত্তিক প্রচারণা কেন্দ স্থাপন করেছেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে নারীরা ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। বিভিন্ন এলাকায় নারী ভোটারদের নিয়ে সমাবেশও করা হচ্ছে। নারী ভোটারদের প্রচারণায় অংশগ্রহণে উত্সাহ সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে দলের নারী কর্মীরা।