অরক্ষিত স্থলবন্দর

স্বাস্থ্য পরীক্ষার তত্পরতা সামান্যই

ইত্তেফাক রিপোর্ট

দেশে তিন জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর মিললেও স্থলবন্দরগুলোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার তত্পরতা সামান্যই। স্থলবন্দরগুলো এ নিয়ে খুব একটা তত্পর গতকাল রবিবারও দেখা যায়নি। রোগ নির্ণয়ে বন্দরগুলোতে মান্ধাতার আমলের পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া এসব বন্দর দিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ আসা-যাওয়া করলেও তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য যে পরিমাণ জনবল দরকার, তার ছিটেফোঁটাও নেই।

বেনাপোল স্থলবন্দরে আগে সোয়াইন ফ্লু নির্ণয়ে থার্মাল স্ক্যানার বসানো হলেও ছয় মাস ধরে এর মনিটর বিকল হয়ে পড়ে আছে। সিলেটের তামাবিল সীমান্তের স্থলবন্দরে থার্মাল স্ক্যানার ছাড়াই স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলছে। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় বাংলাবান্ধা, লালমনিরহাটের পাটগ্রামের বুড়িমারী স্থলবন্দরের একমাত্র ভরসা জ্বর মাপার সাধারণ থার্মোমিটার। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে তিন সদস্যের একটি মেডিক্যাল টিম থাকলেও ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে রোগ নির্ণয়ের চেষ্টা হচ্ছে। একই অবস্থা সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরে। এখানে ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্তে কোনো ধরনের যন্ত্রপাতিই নেই। ভরসা শুধু যাত্রীদের মুখের কথা! তারা যা বলছেন তাই সত্যি!

আমাদের পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, করোনা ঝুঁকিতে অরক্ষিত হয়ে পড়েছে চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা। এ স্থলবন্দরে ভুটান, ভারত  ও নেপালের ট্রাকচালকসহ যাতায়াতকারী পর্যটকদের অবাধ যাতায়াতের কারণে এখানে করোনার ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। এখন পর্যন্ত এ স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশনে আসা গাড়িচালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে না। মেডিক্যাল টিম স্থাপন করে যাতায়াতকারী পর্যটকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হলেও শুরু থেকেই ভিনদেশি গাড়িচালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়রাসহ সংশ্লিষ্টরা দাবি জানিয়ে আসলেও জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেননি।

জানা গেছে, চীনে করোনা ভাইরাস আক্রমণের পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেশের সকল ইমিগ্রেশন ও স্থলবন্দরে সতর্কতা জারি করে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ গত ২৮ জানুয়ারি পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে করোনা শনাক্তে মেডিক্যাল টিম স্থাপন করেন। দুই শিফটে একজন মেডিক্যাল অফিসার, একজন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার ও একজন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সহকারী মেডিক্যাল টিমের দায়িত্ব পালন করছেন। কেবল হ্যান্ড থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে মেডিক্যাল ক্যাম্পে যাতায়াতকারীদের শরীরে তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে। কিন্তু ভারত, নেপাল ও ভুটান থেকে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে আসা ট্রাকচালকদের তা পরীক্ষা করা হচ্ছে না।