গাজীপুর প্রতিনিধি
ঢাকা থেকে অপহূত মাদ্রাসাছাত্র ইব্রাহিম হোসেনকে গাজীপুর নগরীর মীরেরগাঁও এলাকায় এনে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় নিহত ঐ ছাত্রের ফুফাতো ভাইকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১ এর সদস্যরা। শনিবার রাতে ঢাকায় হাজারীবাগ এলাকার বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার নাম বনি আমিন (২৪)। সে বরগুনা সদরের মাইঠা এলাকার আবুল কালাম আজাদের ছেলে। র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি বনি ঐ খুনের ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছে।
গ্রেফতারকৃতের বরাত দিয়ে র্যাব-১ এর গাজীপুর পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গাজীপুর নগরীর সালনা মীরেরগাঁও এলাকায় মাদ্রাসার পোশাক পরিহিত এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পথে ফেলে যাওয়া মাদ্রাসার আইডি কার্ডের মাধ্যমে নিহত শিশুর পরিচয় মিলে। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বনি আমিনকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানায়, বনি আমিন নিহতের আপন ফুফাতো ভাই। ইব্রাহিম রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় ইক্রা দারুল-উলুম মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ভিকটিমের বাবা মনির হোসেনের রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ক্রোকারিজের দোকান পরিচালনা করত বনি। আসামি তার মামা মনির হোসেনের বাসায় থাকার সুবাদে বিভিন্ন সময় তার মামি মোসা. হালিমা বেগমের আচরণে ক্ষিপ্ত ছিল। একপর্যায়ে টাকার প্রয়োজনে এবং মামির ওপর দীর্ঘদিনের ক্ষোভের প্রতিশোধ নিতে আসামি পূর্বপরিকল্পিতভাবে গত ৫ মার্চ দুপুরে তার মামাতো ভাই ইব্রাহিমকে (১০) মাদ্রাসা হতে অপহরণ করে। কৌশলে গাজীপুরের সালনায় নিয়ে গিয়ে মীরেরগাঁও রেললাইনের পাশে জঙ্গলের মধ্যে ইব্রাহিমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে মসজিদে এশার নামাজ আদায় করে বনি। পরবর্তীতে আসামি বিভিন্ন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভিকটিমের কণ্ঠ নকল করে ভিকটিমের বাবাকে কল করে মুক্তিপণ হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। বিকাশের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা হাতিয়েও নেয়। পরবর্তীতে ভিকটিমের লাশ উদ্ধারের সংবাদ শুনে মামা-মামির সঙ্গে কান্নার অভিনয় করে লাশের দাফন কাজে অংশ নেয় বনি, যাতে কেউ সন্দেহ করতে না পারে।