সিরাজগঞ্জের তাড়াশ তথা বৃহত্তর চলনবিল অঞ্চলের দিঘরিয়া খিরার আড়তে এক টাকায় পাইকারি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি খিরা। ঠিক একই সময় পাশের বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি। অর্থাৎ দেড় মণ খিরার দামে মিলছে এক কেজি পেঁয়াজ। খিরার এমন দাম নিয়ে চড়ম হতাশয় পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবছর শুধু তাড়াশেই ৪৪০ হেক্টর জমিতে খিরার আবাদ হয়েছে। প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় ফলনও হয়েছে আশাতীত।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পার্শ্ববর্তী সিংড়া, গুরুদাসপুর, রায়গঞ্জ ও চাটমোহর উপজেলার চাষিরাও খিরা নিয়ে আড়তে এসেছেন। যাদের অনেকে এক টাকা কেজি বিক্রি না করে রাস্তায় খিরা ফেলে প্রতিবাদ করছেন। এ সময় চাষিরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
আরও পড়ুন: যৌনপল্লী ফেরন হাজেরা এখন ৪৬ সন্তানের ‘মা’
খিরা চাষিরা জানান, একবিঘা জমিতে খিরার চাষ করতে সবমিলিয়ে ২০/২২ হাজার টাকা হয়েছে। ক্ষুদ্র বর্গাচাষিরা প্রতি বিঘা জমি ১০/১২ হাজার টাকায় বর্গা নিয়ে আবাদ করায় তাদের খরচ তুলনামূলক বেশি হয়েছে। গতবছর সর্বনিম্ন ২৫০/৩০০ টাকা মন খিরা বিক্রি করেছেন। আর এ বছর মাত্র ৪০ টাকা মন। উৎপাদন ব্যয় তো দূরের কথা, পরিবহন খরচ না জোটায় অনেক চাষি তাদের খিরার জমি ভেঙে বিকল্প আবাদের চেষ্টা করছেন।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লুৎফুন নাহার লুনা জানান, খিরা চাষিরা ভালো ফলন পেয়েও দাম কম হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তবে খিরার জমি নষ্ট না করে তিনি চাষিদের কয়েকদিন ধর্য ধরার পরামর্শ দেন।
ইত্তেফাক/বিএএফ