রংপুর জেলার তারাগঞ্জ-কিশোরগঞ্জ সড়কে সদর হাটবাজার এলাকার এক কিলোমিটার বেহাল হয়ে আছে। এলজিইডির আওতাধীন সড়কটির এই এলাকায় খানাখন্দে ভরে গিয়ে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। গত শুক্রবার দুপুরের এক পশলা বৃষ্টিতে সড়কটিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় জনদুর্ভোগ বেড়ে যায় কয়েকগুণ। সড়কের ঐ অংশের খারাপ অবস্থা হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে এলজিইডির তারাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আহম্মেদ হায়দার জামান জানান,‘সড়কটির ঐ বেহাল অংশের কথা আমাদের জানা আছে। এ নিয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে সড়কটি সংস্কার করা হবে।’
এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, তারাগঞ্জ-কিশোরগঞ্জ সড়কটি দৈর্ঘ্য ১০ কিলোমিটার। এ সড়ক দিয়ে দুই উপজেলার হাজারো মানুষ যানবাহনে চলাচল করে। দুই বছর আগে এই সড়কে সংস্কারের কাজ করা হয়েছে। তারাগঞ্জ বণিক সমবায় সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদিন আপান বলেন, ঐ সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে তারাগঞ্জ হাটবাজার। এ হাটে এক হাজারেরও অধিক ব্যবসায়ী আছে। হাটটি থেকে সরকার এ বছর ২ কোটি ৯ লাখ টাকা ইজারা পেয়েছে। কিন্তু হাট এলাকার এক কিলোমিটার বেহাল হওয়ার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা চলছে। ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে অনেক ক্রেতাই এখন বাজারে আসছেন না।
চাঁদখানা গ্রামের রিকশাচালক ছাবের হোসেন বলেন, ‘রাস্তাটির তারাগঞ্জ হাটবাজারে প্রবেশ মুখের এক কিলোমিটারের অবস্থা খুবই করুণ, এজন্যে আমাদের যন্ত্রণা। এটুকু রাস্তা দিয়া রিকশা চালাবার সময় পেটের নাড়িভুঁড়ি নড়ে। খালি রিকশা নিয়া যাইতেও অনেক কষ্ট হয়।’
কুর্শা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফজালুল হক সরকার বলেন, ‘এক মাস আগে উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভায় সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছি। বর্তমানে সামান্য বৃষ্টি হলে কাদাপানি জমে সড়ক বেহাল হয়ে পড়ে।’ তবে সড়কের পাশ দিয়ে ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। ড্রেন নির্মাণকাজ সমাপ্ত হলে কাদাপানি অনেকটা কমে আসবে বলে তিনি ধারণা করেন।
ফারুক, ফয়জুল, মেরাজুল, সাদেকুলসহ বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ীর অভিযোগ-ড্রেনটির কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের পাশাপাশি কাজ চলছে ধীরগতিতে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী সোলেমান আলী জানান, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ সত্য নয়। তবে মাঝখানে কাজটি একটু থেমে থাকলেও এখন দ্রুতগতিতে চলছে। আশাকরি এ মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে।