স্পোর্টস ডেস্ক
শেষ ক’বছরে ম্যানচেস্টার ডার্বিতে একচেটিয়া সাফল্য ছিল ম্যানচেস্টার সিটির। তবে চলতি মৌসুমে সে রাজত্বে ভাগ বসালো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। রবিবার রাতে নিজেদের মাঠে সিটিকে ২-০ গোলে হারিয়ে দশ বছর পর পেল দুই ডার্বিতেই নগর প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারানোর স্বাদ। প্রতিপক্ষের মাঠে ম্যাচের দখলটা ভালোই ছিল সিটির কাছে। ৭২ শতাংশ বলের দখল, সুযোগ সৃষ্টির ক্ষেত্রে এগিয়েছিল তারা। তারপরও দল হারলো মূলত গোলরক্ষক এডারসনের ভুলেই। ৩০ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেজের ফ্রি-কিক থেকে দুর্বল এক শট নিয়েছিলেন অ্যান্থনি মার্শিয়াল। এডারসনের হাতের তলা দিয়ে বল জালে জড়ালে পিছিয়ে পড়ে গার্দিওলার শিষ্যরা।
ম্যাচের অন্তিম সময়ে আরো একটা ভুল করে বসলেন ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক। তার ভুল থ্রো পেয়ে ৩৫ মিটার দূর থেকে এক শটে ম্যাচের সব অনিশ্চয়তা মুছে দেন স্কট ম্যাকটমিনে। ফলে ২০০৯ সালের পর প্রথমবারের মতো সিটিকে দুই লেগেই হারানোর মধুর স্বাদ পায় ইউনাইটেড। এর ফলে এ নিয়ে টানা দশ ম্যাচে অপরাজিত রইলো ইউনাইটেড। সোলসারের অভিষেকের ১১ ম্যাচের পর এর চেয়ে ভালো সময় আর পার করেনি দলটি। এমন ছন্দ দলটিকে নিয়ে এসেছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফেরার খুব কাছেও। বর্তমানে ২৯ ম্যাচে ৪৫ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার পাঁচে আছে ইউনাইটেড। মৌসুমটা এ অবস্থানে থেকে শেষ করতে পারলে সিটির নিষেধাজ্ঞার কারণে চতুর্থ দল হিসেবে আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলবে তারা।
জয়ের আনন্দ কোচ ওলে গুনার সোলসারকে ছুঁয়ে গেলেও তিনি জানালেন সেরা চারে থেকে শেষ করাই লক্ষ্য তার দলের। সোলসারের ভাষ্য: ‘তাদের কোচ হতে পারাটা সম্মানের ব্যাপার। তারা সামর্থ্যের সবটুকু ঢেলে দেয় ম্যাচে। ভালো খেলোয়াড় হলেও তাদের ভেতরে শেখার তাড়নাটা আছে। আমরা দল হিসেবে উন্নতি করছি। কিন্তু এখনো আমরা পাঁচেই আছি। চেলসি আর লেস্টারকে ধরতে পয়েন্ট প্রয়োজন আমাদের। তাই আমাদের লেগে থাকতে হবে।’ তবে সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা জানালেন কিছুটা দুর্ভাগ্য সঙ্গী হয়েছিল দলের, যারই ফল এই হার। তিনি বলেন, ‘আমরা এভাবেই খেলি। ‘প্রেস’ করতে চেয়েছিলাম, রক্ষণে ভালো করছিলাম এবং আমরা ভালোই খেলছিলাম। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা (প্রথম) গোলটা হজম করি। তারা আমাদের ভুলের অপেক্ষা করছিল।’