৩০ লাখ টাকার লোভে নিজ মেয়েকে হত্যায় সায়

নরসিংদীতে চাঞ্চল্যকর ইলমা হত্যা n বাবা-মাসহ গ্রেফতার পাঁচ

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে এমন

নির্মম সিদ্ধান্ত : সিআইডি

ইত্তেফাক রিপোর্ট

৩০ লাখ টাকার প্রলোভনে এবং প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে পিতাই তার দ্বিতীয় শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েকে হত্যার অনুমতি দিয়েছিলেন। এখবর জানতেন মেয়েটির মাও। ২০১৫ সালের ২৭ মার্চ গ্রাম্য রাজনীতির নির্মমতার শিকার হন ১১ বছরের শিশু ইলমা। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ৩০ লাখ টাকা পেয়ে নিজের মেয়েকে হত্যায় সায় দেন পিতা আবদুল মোতালেব। নরসিংদী মডেল থানায় মামলা করেন সেই পাষন্ড পিতা। পাঁচ বছর পর নরসিংদীর চাঞ্চল্যকর ইলমা বেগম হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে তারা।

গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান, সিআইডির উপমহাপরিদর্শক (সংঘবদ্ধ অপরাধ বিভাগ) ইমতিয়াজ আহমেদ। তিনি বলেন, ইলমা তার পিতার লোভের বলি হয়েছিল। নরসিংদীর বাহেরচরে শাহজাহান ভূঁইয়া ও সাবেক মেম্বার বাচ্চুর নেতৃত্বে দুটি দলের প্রভাব বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। শাহজাহান ভূঁইয়ার লোকজন প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে শিশু হত্যার পরিকল্পনা করে। এর বিনিময়ে তারা ইলমার পিতা আবদুল মোতালেবকে ৩০ লাখ টাকা দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন। টাকার লোভে মেয়েকে হত্যার অনুমতি দেন পিতা। এ পর্যন্ত ইলমার পিতা ৪ লাখ টাকাও পেয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি মাসুম মিয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এই হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। সে শিশু ইলমার সম্পর্কে ফুপাতো ভাই।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরার নেতৃত্বে একটি দল নরসিংদীর মাধবদী থেকে আবদুল মোতালেব, মাসুম মিয়া, গ্রুপ লিডার শাহজাহান ভূঁইয়া, মা মঙ্গলী বেগম ও মো. বাতেন নামে একজনকে গ্রেফতার করে। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর মাসুম মিয়াকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

জিজ্ঞাসাবাদে মাসুম বলেন, ইলমাকে হত্যার পরিকল্পনা হয় ২০১৫ সালের ১ মার্চ। ঐ রাতে যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় তাতে ১৩ জন উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুসারে ইলমার পিতাকে সন্তানের বিনিময়ে ৩০ লাখ টাকার টোপ দেওয়া হয়। ঐ টোপেই রাজি হন তিনি। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৫ সালের ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় ইলমার দুলাভাই বাবুল বাড়ির পাশের একটি দোকান থেকে ইলমাক জিনিসপত্র কিনতে পাঠান। বাড়ি ফেরার পথে বাবুল ও মাসুমের নেতৃত্বে সাত-আট জন তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে ইট ও মুগুর দিয়ে মাথা থেঁতলে ও গলা টিপে তাকে হত্যা করা হয়। এ সময় ইলমার পিতা পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন। মাসুম আরো বলেন, ইলমা হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিদের বাদ দিয়ে মোতালিব বাদী হয়ে বিরোধী পক্ষ ‘বাচ্চু’ গ্রুপের বিলকিস, খোরশেদ, নাসুসহ অজ্ঞাত চার-পাঁচ জনের বিরুদ্ধে নরসিংদী সদর মডেল থানায় ঐ বছরের ৩১ মার্চ হত্যা মামলা দায়ের করেন।