প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেজন্য ভিড় এড়িয়ে চলতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ পর্যন্ত দেশে তিন জন করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ায় তিনি এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক করেন। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে তিনি সবার প্রতি এই আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আপনাদের আতঙ্কিত না হতে অনুরোধ করেছেন। যেহেতু এটি একটি ছোঁয়াচে ভাইরাস, তাই তিনি আপনাদের যতটা সম্ভব ভিড় এড়িয়ে চলতে বলেছেন।’
মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ব্রিফিংকালে আসাদুল বলেন, একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মারাত্মক এই ভাইরাস প্রতিরোধে বাংলাদেশের যথেষ্ট পস্তুতি রয়েছে উল্লেখ করে দেশবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ারও আহ্বান জানান। আসাদুল বলেন, তারা মন্ত্রিসভার বৈঠকে করোনা ভাইরাসের ব্যাপারে এ পর্যন্ত গৃহীত পদক্ষেপগুলোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন।
রূপপুর পরমাণু বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণের পর এর কার্যক্রম ও রক্ষণাবেক্ষণে রাশিয়ার সহায়তার ব্যাপারে স্বাক্ষরিত হতে যাওয়া একটি খসড়া প্রটোকল নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে মন্ত্রিসভার বৈঠকে। বৈঠকের পর সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ২০১১ সালের ২ নভেম্বর দুই দেশের মধ্যে বাংলাদেশে প্রথম পরমাণু বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বিদ্যুেকন্দ্রটির কার্যক্রম শুরুর পর যথাযথভাবে এর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রাশিয়ার সহায়তা জরুরি। তিনি বলেন, রাশিয়া পরমাণু বিদ্যুেকন্দ্র থেকে সৃষ্ট বর্জ্য বাংলাদেশের বাইরে নিয়ে অপসারণ করবে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় পরিবেশগত নিয়ম-নীতি সম্পূর্ণভাবে পালন করা হবে। নিউক্লিয়ার পাওয়ার কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড ২০১১ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুসারে বিদ্যুেকন্দ্র পরিচালনা করবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অভ্যন্তরীণ নদীপথ, ট্রানজিট ও বাণিজ্য সম্পর্কিত প্রোটোকলটিতে দ্বিতীয় সংযোজনের খসড়াও মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে। খসড়া অনুযায়ী ভারতের বদরপুর, সোনামুড়া, কোলাঘাট, মাইয়া, যুগিগোপা এবং বাংলাদেশের ঘোড়াশাল, দাউদকান্দি, সুলতানগঞ্জ, আরিচা ও বাহাদুরাবাদকে ২০১৫-এর জুনে স্বাক্ষরিত পিআইডব্লিউটি অ্যান্ড টি রুট হিসেবে যুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, দ্বিতীয় সংযোজন স্বাক্ষরিত হলে নৌপথ বাণিজ্য সহজ ও গতিশীল হবে। ফলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নৌবাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে।
নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, মংলা, সিরাজগঞ্জ, আশুগঞ্জ ও পানগাঁওয়ের পাশাপাশি দ্বিতীয় খসড়া সংযোজনে রাজশাহী, সুলতানগঞ্জ, চিলমারী, দাউদকান্দি ও বাহাদুরাবাদকেও ‘পোর্ট অব কল’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ভারতের অংশে বিদ্যমান কলকাতা, হলদিয়া, করিমগঞ্জ, পান্ডু, শিলঘাট, ধুবরির পাশাপাশি ধুলিয়ান, মাইয়া, কোলাঘাট, সোনামুড়া, জোগিগোপাকেও দ্বিতীয় খসড়া সংযোজনে ‘পোর্ট অব কল’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
এছাড়া মন্ত্রিসভা জাতীয় জাদুঘরের বোর্ড অব ট্রাস্টি গঠন ও কার্যাদি সুনির্দিষ্ট করে ‘বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর আইন, ২০২০’-এর নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে।