ইতালিতে করোনায় ত্রাহি অবস্থা। এক দিনে ১৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির সেনাপ্রধানও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট নিজেই কোয়ারেন্টাইনে গেছেন। সৌদি আরব ও কাতারে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। ভাইরাসের বিস্তার রোধে ইরান সরকার ৭০ হাজার বন্দিকে মুক্তি দিচ্ছে। বিভিন্ন দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও উত্সস্থল চীনে কমছে। গতকাল পর্যন্ত বিশ্বে ৩ হাজার ৮০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু এবং আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে পৌঁছেছে ১ লাখ ৮ হাজারে। খবর সিএনএন, আল-জাজিরা ও আল আরাবিয়ার
ভয়াবহ অবস্থা ইতালিতে
বিশ্বের মোট ১০৫টি দেশ এবং অঞ্চলে মারণ করোনা ভাইরাস বা কভিড-১৯ ছড়িয়েছে। এর জেরে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৩ হাজার ৮০০ মানুষের। ৩ হাজারের বেশি মারা গেছে কেবল চীনে। চীনের পর সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ইতালিতে। সেখানকার এক-চতুর্থাংশ বাসিন্দা কোয়ারেন্টাইনে। ১৪টি প্রদেশের ঐ দেড় কোটির বেশি মানুষ বিশেষ অনুমতি ছাড়া এলাকা ছাড়তে পারবেন না। তার পরও মারণ ভাইরাসের বিস্তার রুখতে হিমশিম অবস্থা তাদের। রবিবার এক দিনে ১৩৩ জনের মৃত্যু হওয়ায় মোট মৃতের সংখ্যা ৩৬৬ জন। ইতালির সেনাপ্রধান জেনারেল সালভেতোরি ফারিনা আক্রান্ত হয়ে নিজেই নিজের বাসায় কোয়ারেন্টাইনে। রবিবার সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় সেদেশে আরো ১ হাজার ৪৯২ জন করোনা রোগীর সন্ধান পাওয়ার ফলে মোট আক্রান্ত ৭ হাজার ৩৭৫ জন। এছাড়া দেশটিতে স্কুল, জিম, জাদুঘর এবং নাইটক্লাব বন্ধের পাশাপাশি সব ধরনের জনসমাগম নিষিদ্ধ। ইউরোপের অন্য দেশগুলোতে ইতালির নাগরিকদের প্রবেশ বন্ধের দাবি উঠেছে।
অন্যান্য দেশের চিত্র :পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট মার্সেলো রিবেলো ডে সৌসা নিজেই কোয়ারেন্টাইনে চলে গেছেন। গত সপ্তাহে একটি স্কুলের শিক্ষার্থীরা প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে আসে। ঐ স্কুলের শিক্ষার্থী করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন বলে প্রাসাদের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। মৃতের সংখ্যায় তৃতীয় ইরান (১৯৪)। দেশটির সরকার জানিয়েছে, ভাইরাসের বিস্তার রোধে ৭০ হাজার বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। ফ্রান্সে মৃতের সংখ্যা ১১ থেকে বেড়ে ১৯ হয়েছে। রবিবার পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্ত বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ১২৬ জন। সৌদি আরবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। সেখানে কেউ স্বাস্থ্য ও ভ্রমণের তথ্য লুকালে ১ লাখ ৩৩ হাজার ডলার জরিমানা দিতে হবে। বিশেষ করে ইরানে কেউ ভ্রমণ করতে পারবে না। কাতারেও সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৪ জনের শরীরে এ ভাইরাস পাওয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯ জনে। দেশটি আরো ১৪টি দেশ থেকে ভ্রমণ নিষিদ্ধ করেছে।
চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন জানিয়েছে, রবিবার দেশটিতে ৪০ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে। এর আগের দিন ছিল ৪৪ জন। ফলে কভিড-১৯ এর উত্পত্তিস্থল চীনে আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে। উহানের অস্থায়ী হাসপাতালগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ায়ও আক্রান্তের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। ভারতের কেরালায় ৩ বছরের শিশুর দেহেও ভাইরাস মিলেছে। গতকাল সকালে কাশ্মীরে ৬৩ বছরের এক বৃদ্ধার শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ৪৩ জনে পৌঁছেছে। রবিবারই কেরালায় একই পরিবারের পাঁচ জনের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে যার মধ্যে তিন জন সম্প্রতি ইতালি থেকে আসে।