ইত্তেফাক ডেস্ক
বিভিন্নস্থানে করোনা ভাইরাস সন্দেহে ৪৭জনকে হোমকোয়ারেন্টাইনে রাখার খবর পাওয়া গেছে। আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদাতাদের পাঠানো খবর।
ভৈরবে বিদেশফেরত ৩৪ জন কোয়ারেন্টাইনে
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, কিশোরগঞ্জের ভৈরবে তিন দিনে মোট ৩৪ জনকে ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’ রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩২ জন পুরুষ এবং দুই জন নারী। তাছাড়া তাদের অধিকাংশ ইতালি থেকে দেশে ফিরেছেন। তাই এসব বিদেশফেরত প্রবাসীদের পৌর ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সহকারীরা তাদের নিজ বাড়িতে ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’ অবস্থানের পরামর্শ দিচ্ছেন। এদিকে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির ব্যবস্থাপনায় গতকাল বুধবার থেকে শহরের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে নবনির্মিত ট্রমা হাসপাতালে ৫০ শয্যার একটি আইসোলেশন সেন্টার প্রস্তুত করা হয়েছে। ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও ডা. বুলবুল আহমেদ বলেন, বুধবার সকাল ১০টার দিকে ট্রমা হাসপাতালে আইসোলেশন সেন্টারে কাযর্ক্রম শুরু হয়েছে। যদিও এখন পযর্ন্ত কোনো প্রবাসী করোনায় আক্রান্ত বা শনাক্ত হয়নি।
চৌগাছায় ইতালিফেরত দম্পতিসহ ছয় জন হোম কোয়ারেন্টাইনে
চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা জানান, যশোরের চৌগাছায় গত ৭ ফেব্রুয়ারি ইতালি থেকে ফেরেন স্বামী-স্ত্রী। তিন দিন শহরে ঐ ব্যক্তির পিতার বাড়িতে থাকেন। এরপর সোমবার শ্বশুরবাড়ি ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুর মাস্টার পাড়ায় বেড়াতে যান। সেখানে মঙ্গলবার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ঐ ব্যক্তির শ্বশুরবাড়িতে একজন স্বাস্থ্য সহকারীর তত্ত্বাবধানে তাদের ১৪ দিনের ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’ রাখা হয়।
এ বিষয়টি মঙ্গলবার রাতে চৌগাছায় ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। পরে গতকাল বুধবার ঐ দম্পতি পরিবারের ছয় জনকে একজন চিকিত্সকের তত্ত্বাবধানে ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’ রাখা হয়েছে। ঐ দম্পতি বা তার পরিবারের কোনো ব্যক্তির শরীরে করোনার কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. লুত্ফুন্নাহার।
চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. লুত্ফুন্নাহার বলেন, আমি সকালেই সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে (আইইডিসিআর) ফোন করে নিশ্চিত হয়েছি ঐ দম্পতির শরীরে করোনার কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে ঐ পরিবারের প্রধান বলেন, আমাদের শরীরে করোনার কোন লক্ষণ না থাকলেও যেহেতু ভাই-ভাবি ইতালি থেকে এসেছেন, সেহেতু আমাদের একজন ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে ১৪ দিনের জন্য ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’ থাকতে বলা হয়েছে।
বগুড়ায় ইতালি ও চীনফেরত পাঁচ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে
বগুড়া প্রতিনিধি জানান, বগুড়ায় ইতালি ও চীনফেরত পাঁচ জনকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কায় হোম কোয়ারেন্টাইনে (পৃথক রাখা) রেখেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এই পাঁচ জনের মধ্যে নারীসহ তিন জন বগুড়া সদর উপজেলা এবং দুই জন সোনাতলা উপজেলার বাসিন্দা।
বগুড়া স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, তারা সুস্থ থাকলেও অধিক সতর্কতার জন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুর থেকে স্বাস্থ্য বিভাগ এই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
বগুড়া সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সামির হোসেন মিশু সদর উপজেলায় তিন জনের এবং বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজার রহমান তুহিন সোনাতলা উপজেলায় দুই জনের হোম কোয়ারেন্টাইনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. গওসুল আজিম চৌধুরী বলেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বিদেশফেরত ব্যক্তিরা সুস্থ আছেন। অধিকতর সতর্কতা এবং জনমনের শঙ্কা দূর করতেই তারা এখন স্বাস্থ্য বিভাগের নজরদারিতে রয়েছেন।
চীনফেরত শিক্ষার্থী হোম কোয়ারেন্টাইনে
চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, পাবনার চাটমোহরে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে সৈকত হোসেন ডলার নামের চীনফেরত এক ছাত্রকে ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’ রাখা হয়েছে। তবে ঐ শিক্ষার্থীর শরীরে করোনার কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি বলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. এ কে এম শুয়াইবুর রহমান নিশ্চিত করেছেন।
ডা. এ কে এম শুয়াইবুর রহমান বলেন, ‘চীনফেরত ঐ শিক্ষার্থীকে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তবে তার শরীরে করোনার লক্ষণ পাওয়া যায়নি।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরকার মোহাম্মদ রায়হান, থানার অফিসার ইনচার্জ সেখ মো. নাসীর উদ্দিন, স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. শুয়াইবুর রহমান মঙ্গলবার চীন ফেরত ঐ শিক্ষার্থীর বাড়িতে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন।
উপজেলার ছাইকোলা বেরুয়াপাড়া গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে সৈকত হোসেন ডলার প্রায় চার বছর আগে স্টুডেন্ট ভিসায় চীনে যান। সম্প্রতি তিনি দেশে ফিরলে ঢাকায় ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি বাড়িতে আসেন। এলাকাবাসী বিষয়টি প্রশাসনকে জানালে স্বাস্থ্য বিভাগ তার পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়, তিনি করোনায় আক্রান্ত হননি। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. রুহুল কুদ্দুস ডলার ও ডা. ওমর ফারুকের সমন্বয়ে গঠিত টিম তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন।
দাউদকান্দিতে এক ব্যক্তি হোম কোয়ারেন্টাইনে
দাউদকান্দি (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইতালি ফেরত এক ব্যক্তিকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিত্সকরা। ঐ ব্যক্তির শরীরে করোনা ভাইরাসের কোনো আলামত পাওয়া না গেলেও ইতালি থেকে ফেরত আসায় শুধুই সতর্কতার জন্য তাকে ১৪ দিন নিজগৃহে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসক ডা. শাহিনুর আলম সুমন জানান। এর আগে ইতালি ফেরত আরো দুই ব্যক্তিকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছিল। তাদের মধ্যেও করোনা ভাইরাসের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। এদিকে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে শহিদনগর ট্রমা সেন্টারে ১০ শয্যাবিশিষ্ট একটি আলাদা ইউনিট খোলা হয়েছে বলে ডা. শাহিনুর আলম সুমন জানান।