নারীর স্বাধীনতা হরণ করে নারীই

প্রজ্ঞা আহম্মদ জ্যোতি

নারী স্বাধীনতা নিয়ে কতশত লেখা কত প্রতিবাদ।  আচ্ছা কখনো ভেবে দেখেছেন একজন নারী আরেকজন নারীর স্বাধীনতা হরণে কতটুকু দায়ী! এখনো পাড়ার আন্টিরা গ্রুপ নিয়ে পরনারীর সমালোচনায় মত্ত থাকে। তাদের আলোচনার বিষয়, অমুক মেয়ে তমুক ড্রেস পরল কেন, মেয়ের বয়স ২০ এর বেশি কিন্তু বিবাহ দেয় না কেন, অমুকের বাচ্চা হয় না কেন। এরপর তাদের আলোচনার সময় তাদের আলোচিত বস্তু হয়ে দাঁড়ায় মেয়েটা এভাবে হেঁটে যায় কেন, মুখ টিপে হাসা, টিটকারি দেওয়া ইত্যাদি যেনো বাঙালি অনেক মহিলার বৈকালিক রুটিন। যা আমার কাছে ইভটিজিংয়ের চেয়ে কোনো অংশে কম  মনে হয় না। বরং এক কথায় একে ইভটিজিংই বলা যায়। এবার আসুন এর সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ভয়ানক বিষয় নিয়ে কথা বলি। কিছুদিন আগে একজন অবিবাহিত আপু ফেসবুকে পোস্ট দিলেন, তিনি আল্ট্রাসনো টেস্ট করতে গিয়ে হাসপাতালে অন্য মহিলাদের কাছে টিজের শিকার হয়েছেন। এটি আমাকে আমার কৈশোরের একটি ভয়াবহ কাহিনি মনে করিয়ে দিল। আমার ক্রনিক এনিমিয়া ধরা পড়ে। হিমোগ্লোবিন কমে এমন অবস্থা হয়, ঠিকভাবে হাঁটাচলাও করতে পারছিলাম না। ডাক্তার সে সময় অনেক টেস্টের সঙ্গে আমাকেও আল্ট্রাসনো দেয়। হাসপাতালে টেস্ট করতে অবশ্যই আপনাকে রিসিপশনের মানুষটির সঙ্গে কথা বলতে হয়। ঐ হাসপাতালে একজন মহিলা ছিলেন রিসিপশনে। আমি আল্ট্রাসনো করব শুনে ধুম করে আমার মাকে জিজ্ঞেস করে উঠলেন, অবিবাহিত মেয়ে আল্ট্রাসনো কেন করবে? মেয়ের খোঁজখবর রাখেন তো ঠিক মতো? ঐ মহিলার কথায় আমি প্রচুর অপমানিত হয়েছিলাম। অপমানিত হয়েছিলেন আমার মাও। প্রিয় আন্টি সমাজে আল্ট্রাসনো শুধু গর্ভবতী মহিলাদের টেস্ট নয়। আপনি কি জানেন বাংলাদেশের বেশির ভাগ নারীই জরায়ু সমস্যার সম্মুখীন? আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা এজেন্সির জরিপ মতে বাংলাদেশে বছরে সাড়ে ৬ হাজারের বেশি নারী জরায়ুমুখের ক্যানসারে মারা যাচ্ছে।

জরায়ুতে সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে বিবাহিত-অবিবাহিত ঋতুবতী যে কোনো নারী। যার অন্যতম কারণগুলোর মধ্যে দুটির কথা আমি বলব, ১. স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার না করা। ২. সঠিক সময়ে চিকিত্সা না করা।  অন্য আরো কারণ থাকা শর্তেও আমি এই দুটি কারণের কথা বললাম তার কারণ হলো, আমাদের মহিলা সমাজ এখনো ফার্মেসিতে ন্যাপকিন কিনতে যেতে লজ্জা এবং ভয় পায়। ব্যবহার করে অস্বাস্থ্যকর জিনিস। আর জরায়ুতে সমস্যার সম্মুখীন হলে পরীক্ষার ক্ষেত্রেও ঐ রিসিপশনে বসা মহিলাদের কারণেই অনেক মেয়েই পরীক্ষা করতে ভয় পায়। তাই এই ভয়াবহ সমস্যার ক্ষেত্রে টিজ করা আন্টিদের কাছে অনুরোধ রোগে আক্রান্ত হতে পারে আপনার ঘরের কিশোরী মেয়েটিও। তাই নিজে সতর্ক এবং সুস্থ থাকুন, অন্যকেও সুস্থ থাকতে সহযোগিতা করুন।

n লেখক :চতুর্থ বর্ষ, নাট্যকলা বিভাগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়