তৃতীয় শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা প্রসঙ্গে

আগামী বছর থেকে প্রথম শ্রেণি থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত তুলে দেওয়া হচ্ছে সকল পরীক্ষা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুসারে কোমলমতি শিশুদের ওপর থেকে চাপ কমানো ও লেখাপড়া থেকে শিশুদের ঝরে পড়া রোধ করতেই শিক্ষাবর্ষ ২০২১ থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে। এতে শিশুদের পরীক্ষা ভীতি কেটে যাবে বলে আশা করা যায়। এটা নিঃসন্দেহে যুগোপযোগী ও শিশুকল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত। পত্রিকায় প্রকাশিত এই পদ্ধতি বাস্তবায়ন সম্পর্কে কিছুটা জানা গেলেও একটা বিষয় সুস্পষ্টভাবে উলে­খ না থাকায় অভিভাবকদের মনে একটা খটকা রয়েছে। বিষয়টা হচ্ছে প্রথম ও তৃতীয় শ্রেণিতে শিশুদের কিভাবে ভর্তি করা হবে। সরকারি স্কুলগুলোতে বিশেষ করে মফস্সল শহরের স্কুলগুলোতে তৃতীয় শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করাকে কেন্দ্র করে সারা বছর চলে কোচিং বাণিজ্য। আবার পরীক্ষা ছাড়া কেবল শিশুর আচার-আচরণ ও অন্যান্য মনস্তাত্ত্বিক বিষয় দেখে যদি শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়—তাহলে ধরপাকড়, ক্ষমতাধর আর  ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলনেতাদের প্রচণ্ড চাপ পড়বে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের এবং ভতিসংক্রান্ত কাজের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ওপর। যা তাঁদের পক্ষে সহ্য করা কঠিন হবে এবং এড়িয়ে যাওয়া হবে অসম্ভব। তাই বলছিলাম, উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে প্রথম ও তৃতীয় শ্রেণিতে শিশু শিক্ষার্থী ভর্তি করার নিয়ম ভর্তি-নীতিমালায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হোক। অন্যথায় এ নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আশা করি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে।

মো. মুরশীদ আলম

জলেশ্বরীতলা, পৌরসভা লেন, বগুড়া