সামুদ্রিক মাছে মেশানো হচ্ছে বিষাক্ত রং

হুমকিতে জনস্বাস্থ্য

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার সাহেরখালী ইউনিয়নের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় প্রকাশ্যে সামুদ্রিক মাছে মেশানো হচ্ছে বিষাক্ত রং। বাজারে ক্রেতার চোখে মাছকে টাটকা দেখানোর জন্যই এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী প্রতিদিন মাছের সঙ্গে এই বিষাক্ত রং মিশিয়ে দেয়। রংমিশ্রিত এসব মাছ প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে। বিষাক্ত এই মাছ বাজার থেকে কিনে নিয়ে খাওয়ার ফলে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন রকমের দুরারোগ্য রোগে। এতে হুমকির মুখে জনস্বাস্থ্য। সরজমিনে বুধবার সাহেরখালী ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, পাইকারি ক্রেতারা স্থানীয় জেলেদের কাছ থেকে পোপা, লইট্ট্যা, চিংড়ি, ফাইস্যাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ কিনে নিয়ে সেই মাছে সঙ্গে-সঙ্গেই মিশিয়ে দিচ্ছেন লাল রং। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পাইকার ইত্তেফাককে জানান, মাছে রং দিলে মাছ দীর্ঘক্ষণ পর্যন্ত সতেজ থাকে ও মাছ রংচঙে দেখায়। এতে মাছ ভালো দামে বিক্রি করা যায়। এসময় স্থানীয় জেলে দিনবন্ধু জলদাশ, মেঘনাথ জলদাশ ও পশুরাম জলদাশ ইত্তেফাককে জানান, পাইকাররা আমাদের কাছ থেকে কিনে নিয়ে মাছে রং দিয়ে সেই মাছ বাজারে বিক্রি করে। আবুতোরাব বাজারের পোশারি দোকানগুলোতে এসব রং খুব সহজে ১০-২০ টাকায় কিনতে পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, বিষাক্ত রং মেশানো এসব মাছ খেলে মানুষের লিভার-কিডনি অকেজো হয়ে যেতে পারে, এমনকি ক্যানসারও হতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক শঙ্কর প্রসাদ বিশ্বাস ইত্তেফাককে বলেন, মাছে যে লাল রং মেশানো হচ্ছে তা কাপড় রং করার কাজে ব্যবহারের। খাদ্যে ব্যবহার করার রং অবশ্যই কৌটাযুক্ত বা মোড়কজাত হবে। এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, সাহেরখালী ঘাটে সামুদ্রিক মাছে রং মেশানোর বিষয়টি প্রথম অবগত হলাম। খুব শিগগিরই সামুদ্রিক মাছে রং মেশানো বন্ধ করার জন্য আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।