বেশিরভাগ মানুষ বাড়ির চেয়ে কর্মস্থলে বেশি সময় কাটায়। বিশ্ব জুড়ে করোনা আতঙ্কের মধ্যে তাই প্রত্যেকের উচিত দীর্ঘ সময় কাটানো নিজের কর্মস্থলকে যথাসম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। তবে এই পরিচ্ছন্নতা হতে হবে জীবাণুমুক্ত পদ্ধতিতে। কর্মস্থলে থাকা কম্পিউটার, কি-বোর্ড, মাউস, কম্পিউটার ডেস্ক, মেঝে, লিফট, দরজা সব কিছুই জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে।
কারণ করোনা ভাইরাস মূলত মানুষের মাধ্যমে একে অপরের মধ্যে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির স্পর্শ করা কোনো কিছু যখন অন্যরা স্পর্শ করে তখন তার মধ্যেও সেই জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই যেসব জিনিস অফিসের সহকর্মীরা একসঙ্গে ব্যবহার করে সেগুলো যথাসম্ভব জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে। কর্মস্থল জীবাণুমুক্ত রাখার বিষয়ে ‘সেন্টারস ফর ডিজেজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রোটেকশন অ্যান্ড অকুপেশনাল সেফটি অ্যান্ড হেলথ অ্যাডমিনেস্ট্রেশন (ওএসএইচএ)’ কিছু গাইড লাইন দিয়েছে। তবে সেটি করার আগে বুঝতে হবে পরিচ্ছন্নতা কী, আর জীবাণুমুক্তকরণ কী। কম্পিউটার ডেস্ক, কীবোর্ডের মতো অফিসের ব্যবহার্য জিনিসপত্রে অন্তত তিন থেকে পাঁচ মিনিট জীবাণুনাশক দিয়ে রাখতে হবে। এরপর সেটিকে খুব ভালোভাবে টিস্যু পেপার দিয়ে মুছে ফেলতে হবে। এছাড়া অফিসে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে ভালো করে হাত পরিষ্কার করতে হবে। অফিসে কোনো কিছু খাওয়ার আগে এবং পরে উভয় সময়ে হাত জীবাণুমুক্ত করতে হবে। কোনো কারণে যদি হাত ধোয়ার মতো পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকে তাহলে বিভিন্ন ধরনের জীবাণুনাশক উত্তম বিকল্প হতে পারে। এছাড়া সহকর্মী কিংবা বাইরের কেউ আসলেই তাদের সঙ্গে হাত মেলানো, কোলাকুলি করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ এসব মাধ্যমে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।
এছাড়া নিজের শখের স্মার্টফোনটিতেও থাকতে পারে প্রচুর পরিমাণ ব্যাক্টেরিয়া, ভাইরাসের মতো প্রাণঘাতি জীবাণু। তাই স্মার্টফোনটিকেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে বিশেষ সতর্ক হতে হবে। স্মার্টফোনটিকে জীবাণুমুক্ত করতে কোনো কাপড়ে কিংবা টিস্যু পেপারে জীবাণুনাশক মাখিয়ে ফোনের উভয়পাশে পরিষ্কার করা যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে যেন ফোনের কোনো পোর্টের মধ্যে পানি ঢুকে না পড়ে। কর্মস্থলে নিরাপদ থাকতে খেয়াল রাখতে হবে যেন ব্যবহার্য জিনিসপত্র পরিষ্কার করার চেয়ে বরং সেটিকে সত্যিকার অর্থে জীবাণুমুক্ত করা যায়। -সিএনএন