ইস্যুতে উঠছে-নামছে শেয়ারবাজার

ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে দেশের শেয়ারবাজারে। বড়ো ধসের পর বড়ো উত্থান, আবার বড়ো পতন এমনভাবেই চলছে শেয়ারবাজার। বাজারের এ অবস্থাকে অস্বাভাবিক বলছেন সংশ্লিষ্টরা। কোনো ভালো খবর বা উদ্যোগ নেওয়া হলে দেখা যায় সেদিন বাজারের বড়ো উত্থান হচ্ছে। আবার কোনো খারাপ সংবাদ আসলে তখন দেখা যাচ্ছে মূল্যসূচক অনেক পড়ে যাচ্ছে। অর্থাত্ শেয়ারবাজার ইস্যুভিত্তিক হয়ে গেছে।

ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, বাজার নিয়ে কারসাজি চক্র আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। যে কারণে ভালো শেয়ারগুলোর দামও এখন নিম্নমুখী। গত কিছুদিনে খুব কম শেয়ারই আছে যেগুলোর দাম কমেনি। অতীতেও এ কারসাজি চক্রের কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিতে পড়েছেন। তার পরও নিয়ন্ত্রক সংস্থা এ বিষয়ে কার্যকরী কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

গতকাল সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আবারও বড়ো ধরনের পতন হয়েছে। ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক আগের দিনের তুলনায় প্রায় আড়াই শতাংশ এবং সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক প্রায় দুই শতাংশ পড়ে গেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এমন বড়ো পতনের আগে গত মঙ্গলবার ও বুধবার শেয়ারবাজারে বড়ো উত্থান হয়। মঙ্গলবার ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক আগের দিনের তুলনায় ১৪৮ পয়েন্ট বাড়ে। ঐদিন ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩২৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লেখায়। বিপরীতে দাম কমে ১৫টির। আর ১৮টির দাম অপরিবর্তিত থাকে। আর বুধবার ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক আগের দিনের তুলনায় ৭৫ পয়েন্ট বাড়ে। লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৭০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম আগের দিনের তুলনায় বাড়ে। বিপরীতে দাম কমে ৪০টির এবং ৪৪টির দাম অপরিবর্তিত থাকে।

এর আগে করোনা ভাইরাস আতঙ্কে গত সোমবার শেয়ারবাজারে বড়ো ধরনের ধস দেখা যায়। ঐদিন ডিএসইতে মাত্র দুইটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ে। বিপরীতে দাম কমে ৩৫২টির। আর একটির দাম অপরিবর্তিত ছিল। সোমবার এক দিনেই ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২৭৯ পয়েন্ট কমে যায়।

বাজারের এ চিত্র সম্পর্কে ডিএসইর এক জন সদস্য বলেন, এখন শেয়ারবাজারে যে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে তা অস্বাভাবিক। বাজারের এ চিত্র কারো কাম্য নয়। শেয়ারবাজারে উত্থান-পতন থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তবে হঠাত্ বড়ো ধস, এরপর আবার বড়ো উত্থান, আবার বড়ো ধস এটা কিছুতেই স্বাভাবিক হতে পারে না। বাজারের এ অবস্থা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়িয়ে দিচ্ছে। আস্থায় মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১০১ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ১২৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ৩২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩৮১ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ২১ পয়েন্ট কমে ৯৫৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

মূল্যসূচকের এই পতনের পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। দিনভর বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২৯৩টির। আর ২২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। গতকাল লেনদেন হয়েছে ৪০৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ৪২২ কোটি ৫১ লাখ টাকা। সে হিসেবে আগের দিনের তুলনায় লেনদেন কমেছে ১৩ কোটি ৯ লাখ টাকা।

 অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ২২৭ পয়েন্ট কমে ১২ হাজার ৬৫০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১১ কোটি ৬২ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৩৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৬টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৮৫টির এবং ১২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।