নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা হতদরিদ্র দিন মজুর জহির উদ্দিন (৬৭)। উপজেলার আনালিয়া খলিসাকুড়ি গ্রামের মৃত মছির উদ্দিনের ছেলে তিনি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা তার। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত টানা প্রায় ৪৫ বছর মাথায় তেল দেননি, এমনকি চুলে চিরুনি লাগাননি। কাটেননি চুলও। তার শোবার ঘরে চারদিকে দেখা গেলো বঙ্গবন্ধুর নানান ছবি।
বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য কামনা করে সাধ্য মতো মাঝে মধ্যেই দোয়া মাহফিল করেন জহির উদ্দিন। তার আপসোস, মুক্তিযাদ্ধা হয়েও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকারি কোনো সুযোগ সুবিধা আজও পাননি।
জানা গেছে, জহির উদ্দিন (৬৭) বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশকে শত্রু মুক্ত করতে ভারতের শিলিগুড়ি ও মধুপুর ক্যাম্পে প্রায় ৩ মাস প্রশিক্ষণ নেন। শেষে তার যুদ্ধকালীন ক্যাম্প কমান্ডার উপজেলার সিম্বা গ্রামের তসলিম উদ্দিনের সঙ্গে যোগ দেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে পাক-বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে লিপ্ত হন তারা।
’৭৫এ জাতির জনকের হত্যা খবর বিভিন্ন মাধ্যমে জানার পর ক্ষোভে প্রতিজ্ঞা করেন- বঙ্গবন্ধুর খুনিদের এবং রাজাকার, আলবদর, আল সামসদের বিচার কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত মাথায় তেল, চিরুনি দেবেন না। কাটবেন না চুল। সে অপেক্ষায় কেটে গেছে প্রায় ৪৫ বছর। উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকার মধ্যে ক্রমিক নং ৫৯ জহির উদ্দিনের নাম থাকলেও রহস্যজনক কারণে সরকারি ভাবে কোনো সুযোগ সুবিধা তার ভাগ্যে জোটেনি। কয়েক দফায় তালিকাভুক্তের আবেদন করেও মুক্তিযোদ্ধা অন্তর্ভুক্তির তালিকায় তার নাম স্থান পায়নি। নিজের পৈত্রিক কোনো জমাজমি না থাকলেও শ্বশুরের দেওয়া একখণ্ড জমিতে মাটির ঘর তুলে কোনো রকমে দিন কাটাচ্ছেন এই মুক্তিযোদ্ধা।
আরও পড়ুন: কেন রাজনীতিবিদরা করোনা ভাইরাসে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন?
প্রতিবেশী লুৎফর রহমান জানান, জহির উদ্দিন বঙ্গবন্ধুর প্রচণ্ড ভক্ত। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর থেকে তিনি আজ পর্যন্ত মাথায় তেল ও চিরুনি লাগাননি। এমনকি মাথার চুল না কাটার কারণে চুলে জটা ধরেছে।
জহির উদ্দিনের সহযোদ্ধা বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুর রহমান জানান, সে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধকালীন সময়ে সে আমার সঙ্গেই ছিলো। সরকারি সুযোগ সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদন করলেও রহস্যজনক কারণে এখন পর্যন্ত তার কপালে তা জোটেনি। সে আর্থিক অভাব-অনটনের মধ্যে অনেক কষ্টে আছে।
রাণীনগর থানা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার অ্যাড. ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
ইত্তেফাক/এসি