উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা বেড়ে ১০ কোটি কেজি
সিলেট অফিস
সিলেটের চা-বাগানগুলোতে চা-পাতা তোলা শুরু হয়নি পুরোদমে। এবার দেরিতে শুরু হচ্ছে চা-পাতা তোলার কাজ। সচরাচর মার্চের প্রথম সপ্তাহেই বাগানগুলোতে শুরু হয় ‘চা-চয়ন’ কার্যক্রম। এবার মৌসুমী বৃষ্টির অভাবে বাগানগুলো পাতা তোলার কাজে পিছিয়েছে।
সিলেটে বৃষ্টির অপেক্ষা করতে হয়েছে মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত। গত সপ্তাহে মাত্র দেড়-দুই ইঞ্চি বৃষ্টি হয়েছে। উত্তর সিলেটের ২০টি চা-বাগানে কিছুটা সজীবতা এসেছে। চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলে পর্যাপ্ত মৌসুমী বৃষ্টির অপেক্ষায় রয়েছেন বাগানমালিকরা। এবার গত বছরের রেকর্ড অতিক্রম করে ১০ কোটি কেজির বেশি চা উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছেন বাগানমালিকরা।
ফেব্রুয়ারি-মার্চের বৃষ্টিকে ‘আশীর্বাদ’ হিসাবেই গ্রহণ করেন বাগান সংশ্লিষ্টরা। কারণ এই সময়ে চা-বাগান এলাকায় আবহাওয়ায় উষ্ণভাব বিরাজ করলে চায়ের কুঁড়ি বের হয় না। রেড স্পাইডারের আক্রমণের আশঙ্কা থাকে। তবে কয়েকটি বাগানে শুরু হয়েছে ‘চা-চয়ন’। চা অত্যন্ত সংবেদনশীল কৃষিপণ্য মন্তব্য করে হরিপুরের খান চা-বাগানের ব্যবস্থাপক হুমায়ূন কবির বলেন, গত সপ্তাহে বৃষ্টি হওয়ায় তারা ‘চা-চয়ন’ কার্যক্রম শুরু করেছেন পহেলা মার্চ থেকে। এদিন কোম্পানির কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে রীতি অনুযায়ী চা-শ্রমিকরা পাতা তোলার কার্যক্রম শুরু করে পূজাপার্বণের মাধ্যমে। এ বছর এই বাগানেরও উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে।
চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা জানান, প্রতি বছর শীতে চা-গাছগুলোর মাথা নির্দিষ্ট মাপে ছেঁটে ফেলা হয়। পরে বৃষ্টির স্পর্শে গাছে নতুন পাতা গজায়। তিন-চার দিনের মধ্যে কুঁড়ি দেখা দিয়ে পুরো বাগানের চিত্র পালটে দেয়।
দেশে ১৬৪ বছরের চা-শিল্পের ইতিহাসে ২০১৯ সালে সর্বোচ্চ ৯ কোটি ৬০ লাখ কেজি চা উত্পাদন হয়। ২০১৬ সালে উত্পাদন ছিল সাড়ে ৮ কোটি কেজি। সারা দেশে ১৬২টি চা-বাগানের মধ্যে ১৩৮টি বাগানই সিলেটে এই তথ্য দিয়ে চা সংসদের সিলেট ব্রাঞ্চের ভাইস চেয়ারম্যান ও নর্থ সিলেট ভ্যালির সার্কেল চেয়ারম্যান নোমান হায়দার চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, আমরা গত বছরের চেয়ে আরো বেশি পরিমাণ চা উত্পাদনের চেষ্টায় আছি।’ তিনি বলেন, ‘তবে বেশি চা উত্পাদন করে বাগানমালিকরা লাভবান হচ্ছেন না। নিলাম বাজারে তাদের চায়ের দাম প্রতি কেজি ১০০ হতে নেমে গত বছর ৮০ টাকা কেজি হয়ে যায়। এর কারণ হিসাবে তিনি জানান, ভারতীয় নিম্নমানের চা চোরাচালান হয়ে দেশে আসায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।