শ্রীমঙ্গলে পৌর এলাকার ড্রেনগুলোতে ময়লার স্তূপ!

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা

শ্রীমঙ্গল পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা, শহর, সড়ক ও হাটবাজারের ড্রেনেজ ব্যবস্থা একেবারেই নাজুক। বিভিন্ন এলাকায় খোলা ড্রেনগুলোতে ময়লা-আবর্জনা জমে গিয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে ড্রেনের পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং আটকে থাকা পানিতে ময়লার পচা গন্ধে পরিবেশ দূষিত ও মশার উপদ্রব বাড়ছে।

সম্প্রতি শ্রীমঙ্গল পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এসব ড্রেন ও ডাস্টবিনের অধিকাংশই বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। শহরের পূর্বাশা, শ্যামলী, নতুনবাজার, কলেজ রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় ড্রেনে প্রতিদিন ফেলা হচ্ছে বাসাবাড়ির ব্যবহার্য ময়লা-আবর্জনা।

পৌর শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজ রোড মিতাপাড়ার বাসিন্দা মো. কাওছার ইকবাল বলেন, শহরের বিভিন্ন স্থানে ড্রেনগুলো খোলা থাকার কারণে মানুষ ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় ময়লা ফেলছে। এসব ড্রেনে ঢাকনা থাকলে ময়লা ফেলার সুযোগ থাকবে না।

৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বাশা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা দীপক দাশগুপ্ত বলেন, আমাদের বাসাবাড়ির পাশে অন্য এলাকার লোক এসে ময়লা ফেলে না। আমরা নিজেরাই ড্রেনে ময়লা ফেলে পরিবেশ নষ্ট করছি। এজন্য সবারই সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

পৌর এলাকার ব্যবসায়ী খালেদ খান, ঝন্টু পাল, বশির মিয়া ও সাহাবউদ্দিন আহমেদ বলেন, মাছবাজার, খোলাবাজার ও কাঁচাবাজারসহ সেন্ট্রাল রোড এবং পোস্ট অফিস রোডে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে এসব এলাকার চারপাশে সারা বছরই পানি জমে থাকে। ফলে সৃষ্ট কাদা-পানিতে জনসাধারণকে প্রতিনিয়তই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

শ্রীমঙ্গল পৌরসভার মেয়র মো. মহসীন মিয়া মধু বলেন, আগে যে ডাস্টবিনগুলো ছিল সেগুলো কারো বাসাবাড়ি কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে থাকায় পৌরবাসীর আপত্তির কারণে ভেঙে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে পৌর এলাকার ভেতরে কোনো ডাস্টবিন নেই। তবে প্রত্যেক বাসাবাড়ির ময়লা সংগ্রহের জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে পৌরসভার ময়লার ভ্যান রয়েছে। এছাড়াও ড্রেনে ময়লা না ফেলার জন্য মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যে পৌরসভা নিয়মিত সভা, সেমিনার ও প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। তারপরেও কিছু লোকজন ড্রেনে ময়লা ফেলছেন। এ ব্যাপারে জনগণকেই সচেতন হয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে বলে জানান তিনি।