স্পোর্টস ডেস্ক
জাপান সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, টোকিও অলিম্পিক আসর যথাসময়েই আয়োজিত হবে। আর ক্রীড়াবিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই আসরে কোনো পরিবর্তন না আনারও ঘোষণা গতকাল তারা দিয়ে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প করোনা ভাইরাস আতঙ্কের কথা মাথায় রেখে টোকিও অলিম্পিক পিছিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু জাপান সরকার সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি। তারা অলিম্পিক পেছানো তো দূরের কথা, দর্শকশূন্য মাঠেও আয়োজন করতে সম্মত নয়।
চলতি বছরের ২৪ জুলাই শুরু হবে অলিম্পিক। এই আসরকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার গ্রীসের প্রাচীন নগরী অলিম্পিয়ায় জ্বললো ২০২০ টোকিও অলিম্পিকের মশাল। ১৯ মার্চ টোকিও অলিম্পিক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের আগে সপ্তাহব্যাপী মশালটির গ্রীস পরিভ্রমণের কথা। যদিও ক্রীড়া বিশ্বে করোনা ভাইরাস সুনামির মতো আঘাত হেনেছে। বিশেষ করে এশিয়া মহাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রকোপে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে ভীতি কাজ করছে। তবে আয়োজক দেশ জাপানের সরকার ও আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) জানিয়েছে, গেমস আয়োজনের সবধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এখন আর কোনোভাবেই এই আসর বাতিল বা পিছিয়ে দেওয়া হবে না।
জাপান সরকারের মুখপাত্র ইয়োশিদে সুগা সাংবাদিকদের বলেন, ‘অলিম্পিক আয়োজনের সিদ্ধান্তে জাপান সরকার নীতিগতভাবে কোনো পরিবর্তন আনেনি। এই বিষয়ে আমরা আইওসির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। আর টোকিও মহানগর কর্তৃপক্ষ গেমসকে যথাসময়ে আয়োজনের পথে যা করণীয় সেটাই নিয়মিত করে যাচ্ছে।’
সুগা জানিয়েছেন, এই ব্যাপারে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে ও ট্রাম্পের মধ্যে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ ও অলিম্পিক আয়োজন নিয়ে দীর্ঘক্ষণ ফোনে আলাপ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘টেলিফোনের আলাপে ট্রাম্পকে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গেমস আয়োজনের ব্যাপারে জাপানের তত্পরতার কথা জানিয়েছেন। আর যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতিও জাপানের আয়োজনের ওপর আস্থা রাখার কথা জানিয়েছেন।’ সুগা এটাও জানিয়েছেন যে, জাপান সরকার একদমই ফাঁকা স্টেডিয়ামে অলিম্পিক আয়োজনের পক্ষে নয়।
যদিও একদিন আগেও ডোনাল্ড ট্রাম্প অলিম্পিককে অন্তত একদিনের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি তার ওভাল অফিসে বসে গত বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি মনে করি, ওরা এক বছরের জন্য অলিম্পিক পিছিয়ে দেবে। আমার মনে হয়, ফাঁকা স্টেডিয়ামে অলিম্পিক আয়োজনের চেয়ে এটা এক বছর পিছিয়ে দেওয়া ভালো।’
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে জাপানের অলিম্পিক মন্ত্রী সেইকো হাশিমোতো বলেন, ‘আমি রাষ্ট্রপতির বক্তব্যটা শুনেছি। তবে আইওসি কিংবা আয়োজক কমিটি—কেউই অলিম্পিক বাতিল কিংবা পিছিয়ে দেওয়ার পক্ষে নয়।’
ফাঁকা স্টেডিয়ামে অলিম্পিক আয়োজক করা হতে পারে কি না?—এমন প্রশ্নের জবাবে হাশিমোতো বলেন, ‘আমরা এই ব্যাপারে একদমই ভাবছি না।’
এদিকে তো আইওসির প্রধান থমাস ব্যাচ জার্মান টেলিভিশন এআরডিকে জানিয়েছেন,অলিম্পিকের আয়োজক সংস্থা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশাবলি মেনে নিয়েই একটা সফল অলিম্পিক আয়োজন করতে চায়। তিনি মনে করে, অলিম্পিক আয়োজন বাতিল করলে সেটা আরো বড়ো সমস্যায় পরিণত হতে পারে।