অস্থির বিশ্ব শেয়ারবাজার

করোনা ভাইরাস আতঙ্কে অস্থির সময় পার করছে বিশ্ব শেয়ারবাজার। সকালে রেকর্ড পতন আবার শেষ বিকালে বড়ো উত্থান, এভাবেই পার হলো শুক্রবারের বিশ্ব শেয়ারবাজার। গতকাল সবচেয়ে অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে এশিয়ার শেয়ারবাজারে। ভারত, চীন, জাপান, হংকংসহ সব শেয়ারবাজারেই সূচক নিম্নমুখী ছিল। শুক্রবার লেনদেনের শুরুতেই ব্যাপক ধস নামে ভারতে সেনসেক্স সূচকে। নিফটি ৫০ সূচকটি ১০ শতাংশ কমে সার্কিট ব্রেকার ছুঁয়ে ফেলে। লেনদেন হল্টেড হয়ে যায়। প্রায় ৪৫ মিনিট লেনদেন বন্ধ থাকার পর আবার শুরু হয়। পরে দুপুরের পর সূচকের ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় লেনদেন শেষ হয়। এদিকে ভারতের শেয়ারবাজারের পাশাপাশি অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে মুদ্রা বাজারেও। শুক্রবার ডলারের বিপরীতে রুপির দর রেকর্ড কমে যায়। এক ডলারের বিপরীতে দাঁড়ায় ৭৪ দশমিক ৫ রুপি। ২০১৮ সালের অক্টোবরের পর এটাই ছিল রুপির সর্বনিম্ন অবস্থান। তিন দিন আগেও এক ডলারের বিপরীতে ৭৩ দশমিক ৫৬ রুপি ছিল।

বৃহস্পতিবার মার্কিন শেয়ারবাজারে ডো এবং এসএন্ডপি ৫০০ সূচক ১৯৮৭ সালের পর সবচেয়ে বড়ো পতন লক্ষ্য করা যায়। এর ধাক্কা শুক্রবার এশিয়া ও প্যাসিফিক শেয়ারবাজারেও পড়ে। জাপানের নিক্কি ২২৫ সূচক ১০ শতাংশ পড়ে গেলেও পরে বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ৬ শতাংশে ঠেকে। অস্ট্রেলিয়ার শেয়ারবাজার পতন দিয়ে শুরু হলেও পরে বাড়তে থাকে। তবে মার্কিন আইন প্রণেতারা অর্থনীতির ক্ষতি রোধে একটি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন, এমন খবরের পর শেয়ারবাজারে দর উঠতে দেখা যায়। ইউরোপের বাজারেও দর উঠা-নামা করতে থাকে।       অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাংকগুলোকে সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণায় দেশটির শেয়ারবাজারও চাঙা হয়েছে। দিনের শুরুতে বিশ্বের শেয়ারবাজার নিম্নমুখী থাকলেও দিন শেষে নানা প্রণোদনার খবরে আবার চাঙা হয়। এভাবেই অস্থির আরেকটি দিন পার করল বিশ্বের শেয়ারবাজার। তবে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক এই মন্দা দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে।