চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন

ছুটির দিনেও দিনভর প্রচারণায় প্রার্থীরা

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনি উত্তাপ বাড়ছে। প্রচার প্রচারণায় যোগ হচ্ছে নতুন মাত্রা। ইতিমধ্যে প্রার্থীদের ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে নগরীর অলিগলি। চলছে মাইকিং, জনসংযোগ। গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনেও দিনভর প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা।

নগরীর বায়তুশ শরফ জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী। এরপর তিনি মুসল্লিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে নৌকায় ভোট চান। পরে ট্রাক মঞ্চে করে ২৩, ২৮ ও ২৯নং ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন এই প্রার্থী।

এ সময় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসন্ন চসিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদেরকে যে বার্তা দিয়েছেন, তার সারমর্ম হলো চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে মেগা প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে সকল প্রতিবন্ধকতা দূরে সরাতে হবে। চট্টগ্রামসহ সারা বাংলাদেশে যে উন্নয়ন তা আজ দৃৃশ্যমান। চট্টগ্রামের মানুষের স্বপ্নসাধ পূরণে নৌকায় ভোট প্রার্থনা করছি। 

এ সময় মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা শেখ মাহমুদ ইসহাক, সহসভাপতি আলতাফ হোসেন বাচ্চু, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক চন্দন ধর, শ্রম সম্পাদক আবদুল আহাদসহ অন্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে গতকাল নগরীর পশ্চিমাংশের হালিশহর এলাকার বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ করেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন। এ সময় তিনি চট্টগ্রামকে পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব নগরী গড়ার প্রত্যয় জানিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট চান। একইসঙ্গে সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ তৈরির জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানান।

শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রচারণায়   যে সাড়া পাচ্ছি ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত। তবে সেই বিজয়ের জন্য ভোটের মাঠের এবং ভোটকেন্দ্রের সুষ্ঠু পরিবেশ দরকার। বিভিন্ন জায়গায় ধানের শীষের কর্মীদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। যা মোটেও কাম্য নয়। একইসঙ্গে ভোটকেন্দ্রে যদি ভোটারদের যেতে দেওয়া না হয় তাহলে এটি প্রহসনের নির্বাচনে পরিণত হবে।

তার নির্বাচনী প্রচারণার সময় নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, নগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ানসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়র প্রার্থী ছাড়াও বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্টের এম এ মতিন মোমবাতি প্রতীক, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আবুল মনজুর আম প্রতীক, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের ওয়াহেদ মুরাদ চেয়ার প্রতীক, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের জান্নাতুল ইসলাম হাতপাখা প্রতীকে নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছেন। এছাড়া নগরীর ৪১ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থীরা ছাড়াও বিদ্রোহী প্রার্থীরা নিজ নিজ প্রতীকে নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছেন।