মোবাইলের মাধ্যমে আর্থিক সেবাদাতা বিকাশের এজেন্টদের প্রথমে নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন দিয়ে গ্রাহকদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করা হতো। এরপর বিকাশ অফিসের নম্বর ক্লোন করে গ্রাহককে ফোন দিয়ে গ্রাহকদের বিভিন্ন কোড ডায়াল করতে বলা হতো অথবা মেসেজ দিয়ে বিভিন্ন লিংক পাঠানো হতো। গ্রাহকরা সেই কোডে ডায়াল করলেই বা লিংকে ক্লিক করলেই তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা চলে যেত প্রতারকদের হাতে। এ চক্রের অন্যতম হোতা সোহেল আহম্মেদকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মিরপুর-১ এর ১৯ নম্বর রোডের ৩৩ নম্বর বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সিম কার্ড, মাল্টি সিম গেটওয়ে ডিভাইসসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে গতকাল শুক্রবার র্যাব-৩ এর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ব্যাটেলিয়নটির অধিনায়ক লে. কর্নেল রকিবুল হাসান।
কীভাবে প্রতারণা করত তার বর্ণনা দিয়ে র্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, কোনো গ্রাহক যদি মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন করত, তাহলে সেই নম্বর ও তথ্য এজেন্টরা তাদেরকে জানিয়ে দিত। তখন তারা মোবাইল ব্যাংকিং কোম্পানির নম্বর ক্লোন করে সেন্ডার বা রিসিভার করে কল দিয়ে বলত, আমি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অফিস থেকে বলছি, আপনি যেই টাকা পাঠিয়েছেন বা এসেছে, সেই টাকা ভুল নম্বরে চলে গিয়েছে। এ সময় কৌশলে গ্রাহকদের বিভিন্ন কোড ডায়াল করতে বলত। অথবা তারা মেসেজ দিয়ে বিভিন্ন লিংক পাঠাত। গ্রাহকরা সেই কোড বা লিংকে ক্লিক করলেই প্রতারক চক্র টাকা নিয়ে নিতে পারত।
লে. কর্নেল রকিবুল বলেন, সোহেল ২০১৭ সাল থেকে এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
কী পরিমাণ টাকা আয় করেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো সেই বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। তার চক্রের আরো চার-পাঁচ জনের নাম আমাদেরকে বলেছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই নাম বলা সম্ভব হচ্ছে না। তাদের ধরতে শিগিগরই অভিযান চালানো হবে। সোহেল মাদকাসক্ত ছিল। প্রতারণার মাধ্যমে যা আয় করত তা মাদকের পেছনেই ব্যয় করে ফেলেছে। গ্রেফতারকৃতর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও তিনি জানান।